Alauddin Lohagara
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৬ ২২:০০:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৬ ২৩:৩৬:২৭

নাজিম উদ্দিন রানা:
বান্দরবান পার্বত্য জেলাধীন লামা উপজেলার অাজিজনগর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ইসলামপুর।চারদিকে সবুজের সমারোহ, মাঝখানে অাকাবাকা সড়ক যেটি গজালিয়ারমূখ ডিসি সড়ক হয়ে লামা ও সরইয়ের সাথে মিশে গেছে।
১৯৮৮ সালে ইসলামপুরের কয়েকজন টগবগে যুবক প্রতিষ্টা করেন একতা সমিতি।উদ্দেশ্য মহৎ শিক্ষা বঞ্চিত এ এলাকায় অালোর দ্বীপশিখা জ্বালানো।সে মহতি উদ্যোগে উজ্জীবিত যুবক ও এলাকাবাসির অান্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্টা করেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।একতা সমিতির মাটির ঘর অার খোলা অাকাশের নিচে শুরু করে ক্লাসের কার্যক্রম।শিক্ষা সম্পর্কে মোটে ও সচেতন ছিলনা ছাত্র যোগাড় করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের। এ বাড়ী ও বাড়ী গিয়ে ছাত্র সংগ্রহ করেছে একতা সমিতির সদস্যরা।
বর্তমান সহকারি জনাব মাহমুদুল হককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও অারো একজন শিক্ষককে দিয়ে শুরু হয় ক্লাসের কার্য্যক্রম।
প্রথমদিকে শিশু শ্রেনী ও ক্লাস ওয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।পরবর্তিতে ধাপে ধাপে ২য়,৩য়,,৪র্থ ও৫ম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করা হয়।
প্রতিষ্টা কালীন থেকে নামমাত্র সম্মানীতে চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াছমিন লাকী,তামীরে মিল্লাত ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহ-শিক্ষক জরিনা বেগম ও বর্তমান লোহাগাড়ার সন্তান ব্যবসায়ী জনাব মুজাহিদুল ইসলাম এ প্রতিষ্টানটিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।যা অাজীবন ইসলামপুরবাসি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।পাশাপাশি ইসলামপুর নিবাসি জনাব অানোয়ার সওদাগরের নাম বিশেষভাবে উ্ল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘ অনেকটা বছর চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ছাত্রের অভাব ও অনেক শিক্ষকের অন্যত্র চাকুরী হওয়াই ও পরবর্তিতে ১৯৯২ সালে ইসলামপুরে তামিরে মিল্লাত নামক একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্টিত হওয়াই ছাত্রদের ধরে রাখা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।শুধুমাত্র ২জন শিক্ষক মাহমুদুল হক ও বেলাল উদ্দিনকেই
সব শ্রেণী সামাল দিতে হতো।তাই শিক্ষক শূণ্যতায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অন্যস্কুলে নিয়ে যাওয়া শুরু করলে ৫শ্রেণী মিলে ছাত্রসংখ্যা দাড়ায় ৩৭ জন।উল্লেখ্য ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে এল,জি,ই,ডি কর্তৃক সিড়িঘর সহ ৪রুম বিশিষ্ট একটি পাকাঘর নির্মিত হয়।।
মৃতপ্রায় একটি স্কুল ও অালোকবর্তিকা হাতে একজন নুরুল অাবসার-
প্রায় অালো নিভে যাওয়া মুহুর্তে ১৫ মার্চ ২০১৫ সালে অালোকবর্তিকা হাতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন অাজিজনগরের কৃর্তিসন্তান জনাব নুরুল অাবছার।এর অাগে ২০১৩ সালে স্কুলটি রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়।
অাজিজনগর চেয়ারম্যান পাড়া নিবাসি মৃত রফিক অাহামদের পুত্র মোঃ নুরুল অাবসার ছাত্রজীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
২০০৬ সালে রুমা উপজেলার গ্যালেঙ্গা হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রথম শিক্ষকতায় অভিষেক।পরবর্তিতে হাছনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন।।তাই মৃতপ্রায় স্কুলটিকে টিকিয়ে রাখতে অাজিজনগর ইউ,পি চেয়ারম্যান নুরুল অাবসারকে প্রস্তাব দিলে তিনি অানন্দের সাথে সে প্রস্হাব মেনে নেন।তারপর হাসনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে বদলী হয়ে ২০১৫ সালে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
তারপর অার ফিরে তাকাতে হয়নী।শুরু হলো স্কুলের চিত্র বদল।নির্জীবপ্রায় একটি স্কুলে নতুন ভাবে জীবিত হতে শুরু করলো।প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করলো।এলাকবাসি অার সহকর্মিদের নিয়ে ক্লাস শেষে মানুষের ঘরে ঘরে ছুটে যেতে লাগল।দিন কি রাত অবসরকে পাত্তা দেননী।মানুষকে বোঝাতে লাগলেন।
দিনের পর পর অক্লান্ত পরিশ্রম অার নুরুল অাবসারের স্বপ্ন বাস্তবতার মুখ দেখা শুরু করলো।শুরু হতে লাগল অাধারের ভাজ কেঠে অালোর বিজয়ের।দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করলো।শূন্যস্হান পূরণ হতে লাগলো।দিন দিন প্রতিদিন নতুন নতুন কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের পদভারে মূখরিত হতে লাগলো স্কুলটি।
অালোর দেখা মিললো–
২০১৫ সালে পি এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারি ৮জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১জন A+ ও ৭ জন ৭ জন এ গ্রেড পেয়ে শতভাগ সাফল্যের সূচনা করেন।
২০১৬ সালে ৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭জন A+ ও ২জন A গ্রেড পেয়ে শতভাগ সাফল্য অক্ষুন্ন রাখেন।
২০১৭ সালে অাবারো রেকর্ড গড়লেন ২১জন পরীক্ষার্থীর মাঝে ৮জন A+, ১১জন A ও ২ জন A- পেয়ে শতভাগ সাফল্যে এগিয়ে অাজিজনগরে ইউনিয়নে পরপর তিনবার শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড গড়েন।
শুধু তাই নয় চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষায় বারবার ১ম স্হানের রেকর্ড ও ধরে রেখেছেন।
সাফল্যের পথে বাধা ঃ
দিন দিন প্রতিদিন বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্চে।শতভাগ সাফল্যে অভিভাবকরা ও তাদের অতীত চিন্তা বাদ দিয়ে ইসলামপুর বি অালম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার সন্তানকে ভর্তি করাতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।শ্রেণীকক্ষের অভাবে সব ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছেনা।জরাজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ ভবনে অনেকটা মৃত্যু
ঝুকি নিয়ে ক্লাস করছে ছাত্র ছাত্রীরা।
প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে অাজিজনগর ইউ,পি চেয়ারম্যান জনাব জসিম উদ্দীন কোং একটি দুইরুম বিশিষ্ট টিনেরঘর নির্মানের ব্যবস্হা করে দেন।অার এলাকাবাসীরা ঘরের মেঝে পাকা করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেন।বর্তমানে প্রায় ৪শতাধিক শিক্ষার্থী ঝুকিপূর্ণ ভবন,টিনেরঘর ও মাটির ঘরে কখনো খোলা অাকাশের নীচে চলছে লেখাপড়া।জায়গা না থাকায় শত শত কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছেনা তাছাড়া কাছাকাছি কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় প্রতিবছর শিক্ষার অালো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত শিশুরা।অথচ সরকার শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে পূর্বশর্ত শিক্ষা।
পার্বত্য জনপদের দূর্গম এলাকায় শিক্ষার অালো ছড়াতে প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রিয়নেতা জনাব বীর বাহাদুর এম,পি মহোদয়।মাননীয় প্রতিমন্ত্রী পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়।এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি অতিশীঘ্রই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে দ্বি-তল বিশিষ্ট ভবন নির্মান করে শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার পথ সুগম করুক অার নুরুল অাবসারের মত ত্যাগী,পরিশ্রমি।অার সত্যিকার অর্থে সাদা মনের এ প্রিয় শিক্ষকটির হাত ধরেই এগিয়ে যাবে ইসলামপুর বি অালম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।অার দেখা মিলবে সোনালী সকালের,অালো অাসবেই।