Alauddin Lohagara
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৬ ১৬:৩১:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৬ ১৬:৩১:১৪

নিউজ ডেস্ক:
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য রাখাইনে শুক্রবার একটি গাড়িতে অতর্কিত হামলায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী এ হামলার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করেছে। খবর: রয়টার্স। এর আগে গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে অন্তত ৩০টি পুলিশ ও সেনা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় এ হামলার দায় স্বীকার করে আরসা। এরই জের ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে হত্যাযজ্ঞ চালায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হিসাবেই অন্তত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানের নিন্দা জানায়। সংস্থাটি একে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করে। তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ট মিয়ানমার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সে সময়ে মিয়ানমার বাহিনীর ওপর হামলার দায় আরসা স্বীকার করেছিল। শুক্রবারের হামলার ঘটনায় কাউকে চিহ্নিত করতে না পারলেও দেশটির সেনাবাহিনী আরসাকে ‘বাঙালি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ উল্লেখ করে এ হামলার জন্য দায়ী করেছে।
মিয়ানমার সরকার বলছে, পাহাড়ি এলাকায় অন্তত ২০ জন সন্ত্রাসী হাতে বানানো মাইন ও ক্ষুদ্র অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে হামলা চালায়। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলাকারী ১০ জন।
এ বিষয়ে বরাবরের মত সরাসরি আরসা’র মুখপাত্রকে পাওয়া যায়নি। যেকোনো ঘটনার খবর তারা যে টুইটার পেজে দিয়ে থাকে, সেখানেও এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ইয়াঙ্গুনভিত্তিক মিয়ানমারের জনপ্রিয় একটি ম্যাগাজিনে গ্রামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গাড়িতে হামলার যে কথা বলা হচ্ছে, সে সময়ে শুক্রবার তারা ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পেয়েছেন।অবশ্য রাখাইনের ওই এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর সে আলোকে আলোচনা শুরু করেছে। তবে এরপরও রাখাইনে উত্তেজনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঠিক রোহিঙ্গা মুসলিমরা কত দ্রুত রাখাইনে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।