চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

Alauddin Lohagara

বকেয়া বিল চাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে জরিমানা!

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০১ ১৬:৩৭:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০২-০১ ১৬:৩৭:২৫

নিউজ ডেস্ক-

হোটেলের বকেয়া বিল চাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সাইফুল ইসলাম জয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় হোটেল দি কক্স টুডে কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ করেছে।

হোটেল কক্স টুডে’র নিরাপত্তা কর্মকর্তা তপন কুমার চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, গত থার্টি ফার্স্ট নাইটে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জেলা প্রশাসন লাবণী পয়েন্টের গোলঘরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানের জন্য হোটেল কক্স টুডে থেকে খাবার অর্ডার করা হয়। সে অনুযায়ী ৩৫ হাজার টাকার খাবর সরবরাহ করে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

এরপর ওই খাবারের বিল সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়ের কাছে বেশ কয়েকবার যান কক্স-টুডে’র রেষ্টুরেন্ট ম্যানেজার ইকবাল হোসেন। এক পর্যায়ে ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, এবং ইকবাল হোসেনের কাছে বিল দিতে অস্বীকৃতি জানান। কক্স টুডে’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আছে জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।

তপন চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনার পর গত ২৮ জানুয়ারি বকেয়া বিলের জন্য জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলে আবারও যোগাযোগ করি। কিন্তু এবারও বিল পরিশোধ করা হয়নি। উল্টো সাইফুল ইসলাম আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় কক্স টুডে’র রেষ্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন। রেষ্টুরেন্টে কোনো অনিয়ম না পাওয়া সত্ত্বেও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে দাবি কর্মকর্তাদের। তারা আরও জানান, অভিযান চলাকালে কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম। এসময় হোটেলের পলিচালক (অপারেশন) সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে পরে ছেড়ে দেন।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম জয় জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি এই অভিযান পরিচালনা করেছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযানের সময় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলেও জানান তিনি। তবে অভিযানের সাথে বকেয়া বিলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তার।

তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, কক্স টুডে’তে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে অবহিত করেননি। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘সরকারি কাজে আমি ঐদিন চট্টগ্রামে ছিলাম। হোটেল কর্তৃপক্ষের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *