Alauddin Lohagara
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৩ ২৩:৩৪:২৬ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৩ ২৩:৩৪:২৬

মিজবাউল হক, চকরিয়া :
তরকারি ভর্তি ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সহ দুইব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়ন বুড়িপুকুর থেকে তরকারি গুলো ট্রাকে উঠানো হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা বুড়িচং থানার দেবপুর ফাঁড়ির পুলিশ অস্ত্র গুলো আটক করে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টির জন্য অস্ত্র গুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।
জানা যায়, ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে তরকারি বোঝাই একটি গাড়ি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ি অতিক্রম করে মুরাদনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিলো। গাড়ি দ্রুত গতিতে চলে যাওয়াতে পুলিশের সন্দেহ হয়। ওইসময় গাড়িতে থাকা লেবার পরিচয় দেয়া দুই ব্যক্তি, চালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদে বড় ধরণের গড়মিল খুঁজে পায় পুলিশ। পরে গাড়িতে থাকা কাঁচা তরকারি গুলো নামানো হয়। সেখান থেকে ৩টি লম্বা বন্দুক ও ৪টি কাটা রাইফেল উদ্ধার করা হয়। প্রকৃতির ডাকে কথা বলে লেবার পরিচয় দেয়া দু’জন সটকে পড়ে। এসময় গাড়ির হেলপার ও চালককে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়ার আবদু রকিমের পুত্র গাড়ির চালক মো:রুবেল (২৫) একই ইউনিয়নের মগপাড়া এলাকার নুরুল আমিনের পুত্র হেলপার আল আমিন (২০)।
একাধিক সূত্র জানায়, ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টির জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার স্থানীয় এক সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলো। অস্ত্র গুলো পৌছার আগে পুলিশের হাতে আটক হয়ে যায়।
কুমিল্লা বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহাদাত হোসাইন জানান, আটক হওয়া অস্ত্র গুলো চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িপুকুর থেকে ক্রয় করে ব্যবসায়িরা। অস্ত্র গুলো নবীনগর নিয়ে যাচ্ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, আটকৃতদের স্বীকারক্তোতে মতে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র মো: বাদল (২৮) অস্ত্র গুলো ক্রয় করেন। পরে তিনি তরকারি ভর্তি ট্রাকে করে নবীনগরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে তল্লাসির সময় সে পালিয়ে যায়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিমুল হক বলেন, আটক হওয়া দুইব্যক্তি তার এলাকার। তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানান তিনি।
চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বুড়িচং থানার দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ অস্ত্রসহ কিছু অস্ত্র ব্যবসায়ি আটককের কথা শুনেছি। আটক আসামিদের ব্যাপারে কোন তথ্য চাইলে বুড়িচং থানাকে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।