Alauddin Lohagara
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৩ ১৭:৫০:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৩ ১৭:৫১:১৪

নিউজ ডেস্ক-
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পেোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ,যেখানে অবকাঠামো সংকট সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন,পরিবেশ সংস্কার,শিক্ষার মানোন্নয়নসহ সামগ্রিক সমস্যা নিরসনে সিটি মেয়র এই পুনর্বিন্যাস বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন।
আজ দুপুরে পাঁচলাইশ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে হাজী আবদুল ওহাব ফাউন্ডেশনের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষককে সপ্তাহে কমপক্ষে ৩৪টি ক্লাস নেয়ার জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা আছে।কিন্তু অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ প্রজ্ঞাপন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে সেখানে কোন কোন শিক্ষককে সরকারি নির্দেশনার চেয়েও বেশি ক্লাস নিতে হচ্ছে।
আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক না থাকার কারণে ঐ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষককে সরকারি নির্দেশনার বাইরেও অনেকগুলো ক্লাস নিতে হচ্ছে।তাই এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে শিক্ষক স্বল্পতা পূরণ করা হবে।
সিটি মেয়র আরো বলেন, আমাদের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ভাল থাকার পরও অবকাঠামো সংকটের কারণে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা চিহ্নিতকরণের কাজ চালাচ্ছি।অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঐ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা অবকাঠামো উন্নয়ন করব।
প্রসঙ্গক্রমে সিটি মেয়র বলেন, তবে যা-ই বলি টাকা ছাড়া কিন্তু কোন পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত করা যাবে না।এক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য তো আমাদের আছে। তবে যে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হচ্ছে তার জন্য সিটি কর্পেোরেশনকে গৃহকরের উপর নির্ভর করতেই হবে। আমাদের সম্মানিত নগরবাসীকে গৃহকর প্রদানে বাস্তবিক অর্থেই আন্তরিক হতে হবে। জনসাধারণের ট্যাক্স ছাড়া কোন উন্নয়নই করা যাবে না। গত অর্থ বছর গৃহকর আদায় হয়েছে মাত্র ১১২ কোটি টাকা।সেখানে বন্দরের ৩৫ কোটি আর অপরাপর সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত ট্যাক্স মিলিয়ে আছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা।তাহলে গত অর্থ বছরে আমাদের আদায়কৃত ১০৩ কোটি টাকার মধ্যে জনগণের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে মাত্র ৩৩ কোটি টাকা। এ বাস্তবতার কথা আমাদের সম্মানিত নগরবাসীর অনেকেই জানেন না। উনারা মনে করেন নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকাতেই বোধহয় কর্পেোরেশনের সমস্ত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উন্নয়নের প্রশ্নে নগরবাসীর ট্যাক্স সহায়তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর ট্যাক্স ছাড়া কোন উন্নয়নই করা সুদুর পরাহত। জনসাধারণের ট্যাক্স প্রদানে অনীহার কারণেই দেশের অপরাপর সিটি কর্পোরেশনগুলোতে কাঙ্খিত উন্নয়ন করা সম্ভবপর হচ্ছে না।