Alauddin Lohagara
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৭ ২০:৪৪:৩১ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৭ ২০:৪৪:৩১

নিউজ ডেস্ক- :
৪ বছর ধরে মহানগরীসহ চট্টগ্রামের ২০ শিক্ষা থানার ৫০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরাই এসব শূন্য পদের ভরসা। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা এসব শিক্ষকদের ক্লাস ফেলে রেখে প্রধান শিক্ষকের যাবতীয় কার্যক্রম করে দিতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষকের ৫০১টি পদ শূন্য থাকায় চার বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটলেও শূন্য পদ পূরণে গড়িমসি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। যদিও মামলা জটিলতায় পদোন্নতি ও নিয়োগ থমকে থাকার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীসহ চট্টগ্রাম জেলার ২০ শিক্ষা থানায় দুই হাজার ২৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০১টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এরমধ্যে চান্দগাঁওয়ে ১২টি, পাঁচলাইশে ১৭টি, ডবলমুরিংয়ে ১০টি, পাহাড়তলীতে ১০টি, বন্দরে ১১টি, মিরসরাইয়ে ৬০টি, সীতাকুণ্ডে ১৪টি, সন্দ্বীপে ৩৮টি, ফটিকছড়িতে ৩২টি,হাটহাজারীতে ৪০টি, রাউজানে ৫০টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৩টি, বোয়ালখালীতে ২২টি, পটিয়ায় ৩১টি, আনোয়ারায় ২১টি, বাঁশখালীতে ২৮টি, চন্দনাইশে ১৯টি, সাতকানিয়ায় ৩৩টি,লোহাগাড়ায ২৩টি শূন্যপদ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক বাংলানিউজকে জানান, দীর্ঘ সময় থেকে প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। ৬৫ ভাগ সিনিয়র শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার কথা থাকলেও, তা থমকে আছে। কোন সুবিধা ছাড়াই আমাদের এখন দুই দিকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একদিকে ক্লাস, অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের সব কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকার কারণে স্কুলে কোন নিদের্শনা আসলেই তা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। অনেক সময় ক্লাস ফেলে রেখেই ওই কাজ আগে করতে হয়। অল্প সময়ের পদে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণেরও দাবি জানান এ শিক্ষক।
পাঁচলাইশ থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল হামিদ জানান, পাঁচলাইশে ৩৬টি স্কুলের মধ্যে ১৭টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বেশ কয়েকটি স্কুলে সহকারী শিক্ষকেরও স্বল্পতা রয়েছে। স্কুলের সিনিয়র শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে এসব স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষকের সকল কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে শ্রেণি কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাঘাত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণে অধিদফতর কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য মহানগরীসহ চট্টগ্রামের ২০ উপজেলার সিনিয়র সহকারী শিক্ষকের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রথম তালিকাটি নিয়ে আপত্তি ওঠায়, যাচাই-বাচাই করে আবারো পাঠানো হয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘পদ শূন্য থাকলে কিছুটা সমস্যা থাকাটাই স্বাভাবিক। সরকার প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত করেছে। সেহেতু শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি)। তবে প্রধান শিক্ষকের পদের জন্য সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে ৬৫ ভাগ এবং সরাসরি ৩৫ ভাগ নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। শিগগিরই নিয়মানুসারে এসব শূন্যপদ পূরণ হবে।- সূত্র -বাংলানিউজ