Alauddin Lohagara
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৮ ২৩:০৫:৩৯ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৮ ২৩:০৫:৩৯

চকরিয়া অফিস :
চকরিয়ায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দুটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী ও পথচারী আহত হয়েছে। এসময় আরিফ নামের এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৮ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই এঘটনা ঘটে। এনিয়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী জানান, এদিন চকরিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় অন্তত অর্ধশতাধিক পরীক্ষাথী, অভিভাবক ও পথচারি কমবেশি আহত হওয়ার পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। ঘটনাস্থল থেকে পালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের আরিফ নামের এক পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
নাম প্রকাশ্যে কয়েকজন শিক্ষক জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি পালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয় ও চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ইংরেজি দ্বিতীয় পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টার দিকে বের হচ্ছিলো। ওইসময় পরীক্ষা কেন্দ্রের গেইট দিয়ে বের হওয়ার সময় পালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্র চকরিয়া সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রকে হাতের কুনুই দিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় আধ ঘন্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওইদিন চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ কজন পরীক্ষার্থী আহত হয়। 
এদিকে পূর্বের ঘটনার জের ধরে গতকাল ৮ ফেব্রুয়ারি ইসলাম ধর্ম পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে কেন্দ্রের সামনে আবারো দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে কয়েক দফা হামলার ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক আহত হয়েছে। তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্যান্য এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দিকবেদিক ছুটাছুটি করে। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রায় এক ঘন্টা ধরে চকরিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যায় সড়কটি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম তার সহকর্মিদরে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্ঠা করে। পরে চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী পালাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের উপর ইট ও পাথর দিয়ে হামলা করে। পরে চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এনেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের এএসপি কাজী মো.মতিউল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।