admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১৪ ২১:৫৩:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০৪-১৪ ২১:৫৩:২৫

বীর কন্ঠ ডেস্ক :
চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালি থানার আনন্দবাগ হাফেজ মোহাম্মদ সাদেক ওয়াকফ্ স্ট্যান্ড মসজিদ এলাকা থেকে ৭ যুবককে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭।শনিবার দুপুরে নগরের পতেঙ্গা র্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় র্যাব।এরআগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় উস্কানিমূলক জিহাদী বই, ল্যাপটপ ও জঙ্গি কাজে ব্যবহৃত মোবাইল।
চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মিমতানুর রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের আনন্দবাগ এলাকায় একত্রিত হয়েছিল গ্রেফতাররা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অভিযান চালায় র্যাব। এসময় মো. মহিউদ্দিন তামিম (২৯) ও মো. আজফার হোসেন (২১) নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে আরো পাঁচ যুবক এবং বিপুল পরিমাণ জিহাদী উস্কানিমূলক বই ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া অন্য পাঁচ যুবক হলেন— মো. ইমরান (২৭), মো. পলাশ (২৮), মো. রিদওয়ান (২৭), এসএম জাওয়াদ (২৬) ও মো. মুনতাসির (২৬)।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছে, তারা হোয়াট্অ্যাপে ‘দ্বীন ফোর্স এক্সট্রিম’ এবং ‘ইখওয়ান’ নামক দুইটি গ্রুপে সক্রিয় থেকে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা জিহাদী ভিডিও, বিভিন্ন দেশের মুসলিম নর-নারীদের উপর নির্যাতনের চিত্র প্রচার করছে। নিজেদেরকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত এবং তারা আইএসকে অনুসরণের চেষ্টা করছে বলেও স্বীকার করেছে।
র্যাবের এই কর্মকর্তার দাবি, গ্রেফতার হওয়া যুবকরা ২০১৩ সালে নগরের আসকার দিঘীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত আতরজান জামে মসজিদে ইবনে মোস্তাক নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। পরে তারা ওই মোস্তাকের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় উৎসাহী হয়ে উঠে।
তিনি বলেন, তারা তথাকথিত জিহাদের মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ এবং দেশীয় সমমনা জঙ্গিদের একত্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার কাজে লিপ্ত ছিল।
গ্রেফতার হওয়া যুবকদের মধ্যে মহিউদ্দিন তামিম নগরের কোতোয়ালি থানার ১৪৪ আনন্দবাগ এলাকার মো. নাছির উদ্দিনের ছেলে। সে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে।
আজফার হোসেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা গোয়াদন্ডি চাতুরী চৌমুনী এলাকার মো. নূর হোসেনের ছেলে। সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
ইমরান খান চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালি থানাধীন ১৯ জামাল খান লেইনের আজাদ নিজামুল হকের ছেলে। সে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএস কোর্সে অধ্যায়নরত।
পলাশ কুমিল্লার নাঙ্গলকোর্ট দেওভান্ডার এলাকার মো. আলী হায়দার ছেলে। সে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে সে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিল লিমিটেড এর কর্ণফুলী ইছানগরে ইলেকট্রিক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে নিয়োজিত।
চৌধুরী মোহাম্মদ রিদওয়ান চট্টগ্রাম মহানগরের কোতোয়ালী থানা এলাকার ১২২ নূর আহমদ সড়কের শাহ্ মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। সে ২০১১ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। ২০১৩ সালে তাকে বহিষ্কার করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রশাসন।
এসএম জাওয়াদ জাফর নগরের কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড এলাকার এসএম জাফর উদ্দিনের ছেলে। সে ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ পাস করেন। বর্তমানে সে ইয়ং ওয়ান গার্মেন্টসের সহকারী কর্মকর্তা।
মুনতাসিরুল মেহের নগরের কোতোয়ালী থানার ৬৯৯/এ রাবেয়া রহমান লেইন নূর আহম্মদ রোডের ছাদতুল মেহেরের ছেলে। সে অ্যামেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে সে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দি রেড ক্রস (আইআরসি) এর ফিল্ড অফিসার হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে নাশকতা সৃষ্টি করাসহ পরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণের সক্ষমতা না থাকলেও, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি।- পরিবর্তন ডটকম