চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

admin

শোকে স্তব্ধ সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত দুই সহোদরের স্বজনরা

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২০ ১৩:৩৪:০৩ || আপডেট: ২০১৮-০৪-২০ ১৩:৩৪:০৩

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

‘১০ লাখ টাকার ঋণ আব্বুর কাঁধে। এখন কি করে দেশে আসবো? তোমরা কিছুদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করো; এখন আসতে পারবো না’- দু’দিন আগে ফোনে ৮ বছরের সন্তান সজিবকে কথাগুলো বলেছিলেন সোহেল। কিন্তু তার আর দেশে ফেরা হলো না, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরপারে চলে গেছেন তিনি। আর এসব কথা বলে বলে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। শোকে স্তব্ধ পরিবেশে স্বজনদের চোখে কান্নার রোল।

সৌদি আরবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ বাংলাদেশির সঙ্গে প্রাণ হারান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের এমরানুল হক সোহেল ও ইমামুল হক মুন্না। এছাড়াও ওই দুর্ঘটনায় চৌদ্দগ্রামের আরো দুজন প্রাণ হারান।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মর্মস্পর্শী শোকাবহ পরিবেশ। দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকাতুর মা বাকরুদ্ধ। শোকে স্তব্ধ ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনরা। তাদের সান্ত্বনা জানাতে আসা এলাকার লোকজনও কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

 

 

৮ বছরের ছেরে সজিব ২ বছরের কন্যা মারুফাকে কোলে নিয়ে বিমর্ষ সোহেলের সহধর্মিনী তাহমিনা আক্তারের চোখ বেয়ে পড়ছে অশ্রু। সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার স্বপ্নে প্রবাসে পাড়ি জমানো দুই সহোদরের মৃতুতে পুরো পরিবার এখন হতাশা আর শোক সাগরে নিমজ্জিত।

সোহেলের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার জানান, দুদিন আগে স্বামীর সাথে কথা হয় আমার। সে বাচ্চাদের সাথে কথা বলে। বাচ্চারা তাদের আব্বুকে দেশে আসতে বললে তার আব্বু বলে, ‘১০ লক্ষ টাকার ঋণ আব্বুর কাঁধে আছে। কি করে আসব। আব্বু এখন আসতে পারবো না।’ তারপর হাসিখুশি ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে বিদায় নেন।

তিনি বলেন, জানতে পেরেছি আমার স্বামীর লাশের কাছে এখনও দূতাবাসের কেউ যায় নাই। আমি সরকারের কাছে সহায়তা চাই, সরকার যেন আমার স্বামীর লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। আমার স্বামীর মুখ আমি শেষবারের মতো যেন দেখতে পাই।

ঘরের এক কোনে বসে ইনিয়ে বিনিয়ে বিলাপ করে চলেছেন নিহত সোহেল ও মুন্নার ছোট বোন রাশেদা বেগম। তিনি বলেন, আমার ভাইদের টাকায় এই সংসার চলতো। প্রতি মাসে ভাইয়েরা টাকা পাঠালে কিস্তির টাকা পরিশোধ করি। ২০ হাজার টাকা করে কিস্তি দিতে হয় মাসে। ভাইয়েরা তো আমরাদের সহায়তা করছে। এখন তো আমার দুই ভাই আর পৃথিবীতে নাই। এখন এই সংসার কে চালাইবো, আমার মাকে কে দেইখ্যা রাখবো। এখন কে দেখবো আমাদের?

নিহতদের ভাই একরামুল হক ফয়সাল জানান, আমার বড় ভাই সোহেল সে গত ১৬ বছর ধরে সৌদি আরবে আছে। আমার ভাইয়ের লাশের কাছে এখনও বাংলাদেশ দূতাবাসের কেউ যায়নি। সেখানকার মানুষজন বলছে ৪ লাখ টাকা দিলে আমার ভাইয়ের লাশ পাঠাবে। কিন্তু আমাদের কাঁধে অনেক টাকার ঋণ। আমরা এত টাকা কই পামু। দুই ভাইরে হারাইছি। সরকারের কাছে অনুরোধ আমার ভাইদের যেন দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

 

জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মরহুম আবদুল হকের চার ছেলে দুই মেয়ে। এর মধ্যে বড় ছেলে এমরানুল হক সোহেল (৩৪) ও ছোট ছেলে ইমামুল হক মুন্না (২২) সৌদি আরবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। বাকি মেঝ ছেলে এমরামুল হক ফয়সাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। সেঝ ছেলে এমরানুল হক সোহাগ সৌদী আরবে থাকেন। নিহত সোহাগের সজিব নামের ৮ বছরের এক ছেলে ও মারুফা নামের ২ বছরের এক মেয়ে রয়েছে।- পরিবর্তন ডট কম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *