admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০১ ২৩:৩১:০১ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০১ ২৩:৩১:০১

বীর কন্ঠ ডেস্ক :
বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি খ্যাত চট্টগ্রামে শবে বরাতের এশার নামাজে মসজিদগুলোতে মুসল্লির ঢল নেমেছে। বৃদ্ধ-যুবকদের পাশাপাশি বাবা-চাচার হাত ধরে বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরও মসজিদে এসেছে।
মঙ্গলবার (১ মে) নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদসহ প্রধান প্রধান মসজিদগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেকে এশার আজানের অনেক আগেই চলে আসেন মসজিদে।
অনেক মসজিদের ছাদে ও বারান্দায় শামিয়ানা টাঙিয়ে বাড়তি মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য জায়গা করা হয়েছে। বড় বড় মসজিদ-মাজারগুলোর আশপাশে বসেছে আতর, টুপি, সুরমা, জায়নামাজ, তসবিহ, ধর্মীয় বই-পুস্তক বিক্রির দোকান। কিছু কিছু মুসল্লি বাসা থেকে এনে গরিবদের মধ্যে বিলি করছেন হালুয়া-রুটি।
ওয়াসার মোড়ের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে কথা হয় মেহেদিবাগ থেকে নামাজ পড়তে আসা কলেজছাত্র আদিব আবরারের সঙ্গে। তিনি বলেন, লাইলাতুল বরাত হচ্ছে মহিমান্বিত রাত। ভাগ্যবণ্টনের রাত। তাই সারা দিন নফল রোজা রেখে আগেভাগে মসজিদে চলে এসেছি। মুরুব্বি ও আলেমদের মুখে শুনেছি যেখানে যত বেশি মুসল্লির সমাগম সেখানে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি।
নগরীর লালদীঘির পাড় এলাকায় শাহসুফি হজরত আমানত খান শাহের (র.) দরগা মসজিদে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, আলোচনা, মিলাদ, জেয়ারত, জিকিরে মশগুল মুসল্লিরা।
খাদেম পরিচয় দিয়ে মুহাম্মদ হাবিবউল্লাহ খান মারুফ জানালেন, চট্টগ্রামের মানুষ শবে বরাতে রাতভর নফল এবাদত করেন। একেবারে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে ঘুমোতে যান। সারা রাত পুণ্যসঞ্চয়ে ভালো কাজ করেন তারা। মুরুব্বিদের কবর জেয়ারত করেন। কোরআন তেলাওয়াত করেন। জিকির করেন। দোয়া করেন। তসবিহ জপেন। একসঙ্গে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। তখন দেশ-জাতির সমৃদ্ধি কামনা করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হজরত বদর শাহ (র.), হজরত মিসকিন শাহ (র.), হজরত বায়েজিদ বোস্তামী (র.), হজরত গরিবুল্লাহ শাহ (র.), হজরত বদনা শাহ (র.), হালিশহরের হাফেজ মুনির উদ্দিন (র.). ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার শরিফ, আনোয়ারার মোহসেন আউলিয়ার দরগাসহ আউলিয়াদের মাজার ও খানকাগুলোতে ভক্ত-আশেকানরা ভিড় করছেন।
বলুয়ার দীঘির খানকা শরিফে রাতব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (স.). খতমে গাউসিয়া, সাজরা শরিফ, লায়লাতুল বরাত ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় এবং লায়লাতুল বরাতের তাৎপর্য শীর্ষক এলাচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল।
রাউজানের কাগতিয়া আলিয়া গাউসুল আজম দরবার শরিফে শবে বরাতে রাতব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মিলাদ, কিয়াম, তেলাওয়াত, নূরে কোরআন বিতরণ, ফাতেহা শরিফ, ইসালে সওয়াব, মোরাকাবা (ধ্যান), জেয়ারত, আখেরি মোনাজাত ইত্যাদি।- বাংলানিউজ