admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০১ ০০:৪৯:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০১ ০০:৪৯:২৯

আব্বাস হোসাইন আফতাব, রাঙ্গুনিয়া
রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে পিঠিয়ে দুটি শিশু সন্তানসহ এক দম্পতিকে ঘর থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছেন প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা। দূর্বৃত্তরা একটি গাভীসহ লক্ষাধিক টাকার মালামালও লুঠ করে নিয়ে গেছেন বলে থানায় অভিযোগ করেছেন নিরীহ কৃষক পরিবারটি।
তাদের সেমিপাকা রান্নাঘরটি ভেঙ্গে চুরমার করে যাবার সময় মূল ঘরের দরজা-জানালায় কাঠের বাটাম দিয়ে পেরেক টুকিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রতিপক্ষ আবদুল মোনাফ (৩৫) এর নেতৃত্বে একদল নারী পুরুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে কৃষক পরিবারটিকে ঘর ছাড়া করেন বলে ¯’ানীয়রা জানায়। অসহায় পরিবারটি মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত শনিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটায় রাঙ্গুনিয়ার মধ্যম সরফভাটা গ্রামের দুলামিয়া চৌধুরী বাড়িতে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় ঘর ছাড়া হওয়া কৃষক আবুল বয়ান প্রতিপক্ষের ৯জনকে আসামী করে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষের ভয়ে অসহায় পরিবারটি এলাকায় যেতে নাপারলেও হামলাকারীরা এলাকায় বীর দর্পে চলাফেরা করছেন বলে জানা গেছে। রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ইমতিয়াজ ভুঁইয়া ভিটেবাড়ির মালিকানা নিয়ে একটি পরিবারকে ঘরছাড়া করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে পুলিশ আসামীদের ধরতে তৎপর রয়েছে। মামলায় আবদুল মোনাফ (৩৫), আবদুল হাকিম (৩৭), শাহ আলম (৩২), মফজল করিম বা”চু (৩২), মো. নাছের (৩০), মো. নুরুল আবছার (৩২), মোছাম্মৎ মহরম বেগম (৩২), শারমিন আকতার (২৭) ও মো. বাহাদুর (৩০) কে আসামী করা হয়েছে। নিজের বসতঘর থেকে বিতাড়িত কৃষক আবুল বয়ানের স্ত্রী কুলসুম আকতার বলেন, হঠাৎ করে ৮/৯ জন লোহার রড, হাতুড়ী, লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতভাবে ঘরের ভিতর এসে রান্নাঘর ভাংচুর করতে থাকে। বাঁধা দিলে তাঁরা আমাকে, মেয়ে ও ছেলেকে মারধর করতে থাকে। বেধড়ক পিঠিয়ে আমাকে ও সন্তানদের গুরুতর আহত করলে আমি সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হই। এরপর তারা ঘরের জানালা ও দরজায় কাঠের বাটাম দিয়ে পেরেক দিয়ে ঠুকে বন্ধ করে দেয়। এবং দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
কৃষক আবুল আবুল বয়ান বলেন, “এক জামা পড়ে তিন দিন ধরে ঘরের বাইরে কাটা”িছ। কিছুতেই ঘরে যেতে পারছিনা। প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় শনিবার বিকেলে আমি গ্রামের একটি বিলে ধান কাটতে গেলে প্রতিপক্ষরা এই ঘটনা ঘটান। রাতেই থানায় এসে মামলা করেছেন তিনি। কিন্তু পুলিশ এখনো কোনো আসামী গ্রেপ্তার করেনি। প্রতিবেশীরা মুঠোফোনে জানিয়েছেন রোববার রাতে প্রতিপক্ষরা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র সব লুঠ করে নিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত মো. আবদুল মোনাফ মুঠোফোনে বলেন, ঘরসহ জায়গাটি আবুল বয়ানের বাবার কাছ থেকে কিনেছি। ৪ বছর আগেই ইউনিয়ন পরিষদের সালিশ বৈঠকে রায় দিয়ে তাঁকে ঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি সরেননি। মারধরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমাদের প্রাপ্য আমরা বুঝে নিতে গেলে আবুল বয়ান উল্টো আমাদের মারধর করেছেন। আমি এই ঘটনায় মামলা করব।
সরফভাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভিটার জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে এই ঘটনা ঘটে। ঘরটি আবুল বয়ান নির্মাণ করলেও জায়গাটি তার বাবা প্রতিপক্ষ আবদুল মোনাফের কাছে বিক্রি করে দেন। তবে তাঁদের সময় দিয়ে আইনের মাধ্যমে ঘর থেকে উ”েছদ করা উচিত ছিল। বিষয়টি অমানবিক হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের কেউ তাকে জানায়নি বলে তিনি জানান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক মো. দেলোয়ার বলেন, তদন্তে নিরীহ পরিবারটিকে জোর পূর্বক ঘর ছাড়া করার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামীদের ধরতে পুলিশ চেষ্ঠা চালা”েছন বলে তিনি দাবী করেন।