admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০১ ০০:৩৪:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০১ ০০:৩৪:১৪

বীর কন্ঠ ডেস্ক :
বজ্রপাতে সারা দেশের ৯ জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুর, কুমিল্লা ও মৌলভীবাজার জেলায় দুজন করে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, রাজশাহী, পাবনা, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন। এসব ঘটনায় আরো অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
জামালপুর : জেলায় বজ্রপাতে বকুল (২৫) ও হাবিবুর রহমান (৩৫) নামে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নামে এক ব্যক্তি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বকুল ইসলামপুরে দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে এবং হাবিবুর রহমান সরিষাবাড়ীর মহাদানের শ্যামের পাড়া গ্রামের আলিফ উদ্দিনের ছেলে।
চিনাডুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বকুল ও রাজ্জাক একটি ছোট নৌকাযোগে যমুনা নদী পথে চিনাডুলী নৌঘাট থেকে গুঠাইল বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের ওপর বজ্রপাত ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বকুল মারা যান এবং রাজ্জাক গুরুতর আহত হন।
আহত রাজ্জাককে প্রথমে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে মহাদান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জুয়েল জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ক্ষেতে ধান কাটার সময় কৃষক হাবিবুর বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কুমিল্লা : জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ২ জন মারা গেছেন। এদের ১ জন চৌদ্দগ্রামের কৃষি শ্রমিক বুলু মিয়া। এ সময় আহত হয়েছে আরো একজন।
সোমবার দুপুরে চৌদ্দগ্রামের কাশিনগর ইউনিয়নের ডোলসমুদ্র জলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত বুলু মিয়া নলিফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের শ্রীপনতলা (বড়ইয়া বাড়ি) গ্রামের আবদুল মান্নানের জমির ধান কেটে বাড়ি আনার সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই বুলু মিয়ার মৃত্যু হয়।
আহত অপর জনকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, দাউদকান্দিতে বজ্রপাতে হাজেরা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে। সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত হাজেরা বেগম দাউদকান্দি উপজেলা পদুয়া ইউনিয়নের উজিয়ারা গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী।
দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পদুয়া ইউনিয়নের উজিয়ারা গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম বজ্রপাতে মারা গেছেন।
তিনি বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি।
মৌলভীবাজার : পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে পৃথক এ বজ্রপাতে দুইজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- অজয় গোয়ালা (৩০) ও তমিজ উদ্দিন (৩৫)।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে অজয় গোয়ালা নামের এক শ্রমিক নিহত হন। দুপুরে লেবু বাগানে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অজয় লাখাইছড়া চা বাগানের দিপক গোয়ালার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে লেবু বাগানে কাজ করার সময় তিনি বজ্রপাতে আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য প্রথমে শ্রীমঙ্গল ও পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
এছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তমিজ উদ্দিন (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৩টি গরুও ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তমিজ উদ্দিন আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের হাজী আব্দুল মতলিবের ছেলে। তিনি ওমান প্রবাসী বলে জানা গেছে।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন জানান, তমিজ উদ্দিন ওমান প্রবাসী। কিছুদিন আগে তিনি ছুটি কাটাতে দেশে এসেছেন।
দুপুরে হালকা বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশের মাঠে গরু চরাতে যান তমিজ উদ্দিন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কমলগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গোলাম মোস্তফা পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজন নিহতের নিশ্চিত করেছেন।
রাজবাড়ি : জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ঝাউডাঙ্গী গ্রামে বজ্রপাতে আব্দুল মতিন মণ্ডল (৩৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল মতিন মণ্ডল উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ঝাউডাঙ্গী গ্রামের মোতালেব মণ্ডলের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বিলপাকুরিয়া বিলের মধ্যে মতিন মণ্ডল মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পাশে থাকা অন্য কৃষকেরা তাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বালিয়াকান্দি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ : জেলার দুই উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। আহত তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ঝড়ের মধ্যে রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ উপজেলায় ধানের জমিতে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, দুপুরে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুসারচর গ্রামের পাশাপাশি দুইটি ধান ক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিল ওবায়দুল হক (৩০) ও সাদেক মিয়া (৪৯)। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা যায় ওবায়দুল হক। আর পাশের জমিতে কাজ করা সাদেক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সোনারগাঁ উপজেলার মুসারচর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ওবায়দুল হক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন জানান, উপজেলার ভোলাব বন্দের বাড়ি এলাকায় দুপুরে ঝড়ের মধ্যে বাড়ির পাশে ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে হাসেম মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম আহত হন। পরে স্বজনরা তাদেরকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহত হাসেম মোল্লা ভোলাব বন্দের বাড়ি এলাকার কামাল মোল্লার ছেলে ও রফিকুল ইসলাম একই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।
ফেনী : জেলার সোনাগাজীতে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (২৭) নামের এক যুবকের মত্যু হয়েছে। এসময় আরও দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার মুহুরী প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আকল ঘাটা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও মৎস্য চাষীরা জানান, রোববার দুপুরে সাদ্দাম রান্না করার জন্য লাকড়ি আনতে ঘর থেকে বের হন। হঠাৎ তিনি বজ্রপাতের শিকার হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন আংশিক আহত হন। পরে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে এসে সাদ্দামকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মিরসরাইয়ের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৎস্য চাষী নিজাম উদ্দিন জানান, সাদ্দামের লাশ গ্রামের বাড়ি খুলনায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে মুহুরী প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করে নদী থেকে চিংড়ি মাছ (পোনা) আহরণ করে বিক্রি করতেন। তিনি পেশায় একজন মৎস্যজীবী ছিলেন।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হারুনুর রশিদ বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজশাহী : জেলায় বজ্রপাতে ইয়াকুব আলী (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে জেলার পুঠিয়ায় উপজেলার নওপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ঐ গ্রামের আরেজ উদ্দিনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সায়েদুর রহমান ভূইয়া জানান, সোমবার সকালে এলাকায় ঝড়-বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হচ্ছিল। সেই সময় ইয়াকুব আলী বাড়ির পাশে বেগুন ক্ষেতে কীটনাশক দিচ্ছিলেন। এসময় তিনি বজ্রপাতে আক্রান্ত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।
পাবনা : জেলায় বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার সকালের ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ে আম, লিচু ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে আকাশ কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে আসে। এরপর শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে ঈশ্বরদী উপজেলার পল্টন ঘাটে (পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলের পানির পাম্প) বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সকালে ওই ব্যক্তি পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম শহীদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ঝড়ে চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পাকা ও আধাপাকা ধান পড়ে গেছে।
পাবনা কৃষি সমপ্রসারণ আধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার বলেন, বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে যাওয়া ও বোরো ধান নষ্ট হবার খবর পেয়েছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে।
হবিগঞ্জ : বানিয়াচং উপজেলার তেল কুমার হাওরে বজ্রপাতে শামসুল হক (৩৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামসুল হক বানিয়াচং উপজেলার জাদুকর্ণ পাড়ার মৃত গাজী রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বৃষ্টিতে হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে কৃষক শামছুল হক ধান কাটতে যান। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জ : জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জামখলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ইয়াহিয়া আহমদ(২৪) নামের এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আব্দুল্লাহ নামের অপর শ্রমিক আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ধানকাটা শ্রমিক ইয়াহিয়া সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ইলিয়াছ আলীর ছেলে এবং আহত আব্দুল্লাহ একই গ্রামের ওয়াতির আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাহপাশা ইউনিয়নের মৌগাঁও বাগেরকোনা গ্রামে আবদুস সোবহানের বাড়িতে ধান কাটতে আসেন ইয়াহিয়া ও আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন শ্রমিক। সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো মৌগাঁও গ্রামের পাশের জামখলার হাওরে ধান কাটতে যান ইয়াহিয়াসহ অন্য শ্রমিকরা।
ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ইয়াহিয়া মারা যান এবং আব্দুল্লাহ আহত হন। আহত আব্দুল্লাহকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।