admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৩ ১৫:২৮:০৫ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৩ ১৫:২৮:০৫

ডাঃ ওমর ফারুক :
খ্যাত বা অখ্যাত প্রতিটি মানুষের জীবনে কৈশোর বা যৌবন সময়টা আসে।এই জীবনটি একটু কৌতুহলী ও আবেগময় হবে এটি স্বাভাবিক।এই জীবনটাতে কৌতুহলী ও আবেগময় না হওয়াটা অস্বাভাবিক।তবে এরও একটি সীমাবদ্ধতা থাকে,আর এর সীমাবদ্ধতাকে লংঘন করাকে বলে নষ্টামী। আমরা যে ঐ সময়টিতে সাধু ছিলাম তাও কিন্তু নয়,তবে আমাদের অ-সাধুটি ছিল সালিনতা ও শৃষ্টাচার ভোক্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যে।আমাদের দিনে(১৫/২০ বছর আগে) সীমালংঘনকারী ছিল না তা কিন্তু নয়,তবে ছিল সংখ্যায় ৪/৫ শতাংশ।কিন্তু বর্তমানে তা ২০/৩০ শতাংশের উপরে। এভাবে চলমান থাকলে কেমন হতে পারে আগামী তারুণ্য তা চিন্তা করাও কঠিন।
কেন এমন হচ্ছে তার একটি সুক্ষ বিশ্লেষনঃ
১/অভিভাবকের অবহেলাঃ- আমাদের সময় বা এরও আগের সময় কোন শিক্ষার্থী বা কিশোর সন্ধ্যার পর বাড়ির বাহিরে থাকত না,কোন কারনে সন্ধ্যার পর সন্তান বাড়ির বাহিরে থাকলে অভিভাবকগন খোজ নিয়ে দেখতে সন্তান কোথায়। এখন চিত্র ভিন্ন-আমাদের হাস-মুরগী বা গরু-ছাগল সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরলেই খোজ করি কিন্তু সন্তান না ফিরলে খোজ করিনা।
কোন কোন অভিভাবক হয়তো মোবাইল করে খোজ নিয়ে দেখে –এতে হয়তো উত্তর আসে “আমি কোচিংএ বা প্রাইভেটে তবে প্রকৃত পতেঙ্গা বিচে।
২/ প্রযুক্তির ভুল হাতঃ – “এখই জিনিস চোখে লাগালে কাজল,আবার সাদা জামাতে লাগালে কালি বা ময়লা”। অর্থ্যাৎ প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হচ্ছে ঠিকই,কিন্তু ভুল হাতে প্রযুক্তি কোন দিনই নিরাপদ নয় ও ছিলনা। রাষ্ট্রীয় বিশেষজ্ঞগন অবগত আছে বলেই তো ১৮ বছরের নিচে বয়সের জন্য মোবাইলে সিম রেজিষ্টেশনের ব্যবস্থা রাখেনি( যদি এখানে কিছু দুর্নীতি হচ্ছে)।সেক্ষেত্রে অভিভাবকের বিবেচনা করা উচিত ছিল কেন রাষ্ট্র ওদের সিম দেওয়াতে অনিহা দেখাচ্ছেন।আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারব-বর্তমানে ৯৫ শতাংশ কিশোর পর্ণ আশক্ত,যার বড়াংশ দায়ী অভিভাবকগন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতেও একটি কিশোর যদি ঘন ঘন পর্ণাক্ত হয় সেক্ষেত্রে তার ভবিষ্যত যৌন জীবন নষ্ট হয়ে যাবে,তখন হয়তো মাদক বা মাদকজাত দ্রব্যের সহায়তা নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা,যার পরিনতি নিশ্চিত মৃত্যু।
৩/ অপরাধী হতেও কিন্তু টাকা লাগেঃ আমাদের কিশোর সময়ে আমাদের হাত খরচ বলতে কিছুই ছিল না,যার খাওয়ার বাড়িতেই খাওয়া হত,আর যা প্রয়োজন হত তা বাড়ি থেকে মিটানো হত। কিন্তু আজ অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে কিশোরদের হাত খরচ বা বিবিধ খরচের নামে অভিভাবকের পক্ষ থেকে চলে আসতেছে অনেক টাকা।আর এই টাকা গুলোর মাধ্যমে কিশোরগন জড়িয়ে পড়তেছে অপরাধ বা অপরাধী চক্রের সাথে।
৪/ ভাই-য়া প্রথাঃ- প্রতিটি এলাকার কিশোর তরুন আজ বিভিন্ন ভাইয়ার নেতৃত্ত্বের বেড়াজালে আবদ্ধ এবং তাদের বিভিন্ন অপরাধ বা অপরাধ মুলক কাজে সাহস বা রক্ষা করতেছে এই ভাইয়া গোষ্টি।আর ভাইরা থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নিয়ন্ত্রিত।সুতরাং ভাইয়া নামে অ-ভাইয়া গুলোও কিশোর অপরাধী সৃষ্টিতে দায়ী।
উপসংহারে বলতে চাই –আমার সন্তানকে টিকা দেওয়ার সময় সে সুই এর ব্যথা পাবে জেনেও সন্তানের ভাল এর কথা চিন্তা করে আমাদের তা করতে হয়।সুতরাং আপনি আপনার সন্তানের ভাল চাইলে এখনই নিয়ন্ত্রিত হোন,প্রয়োজনী একটু যন্ত্রনা দিয়ে হলেও। অন্যতায় এই সন্তান আপনারই যন্ত্রনা হয়ে দাড়াবে।
লেখক.- ডাঃ মুহাম্মদ ওমর ফারুক (হোমিওপ্যাথ), লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।