admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৭ ১৪:০৭:৩৯ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৭ ১৪:০৭:৩৯

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর ইউনিয়নের রাণীরহাট বাজারে বিলাসবহুল একটি প্রাইভেট কার নং- চট্টমেট্টে-গ ১১-৬৩১৪ তে চড়ে গিয়ে নিজেদের ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজী করার সময় ¯’ানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে আটক হয়েছেন এস এম মিজান উল্লাহ সমরকন্দি ও পারভীন আকতার নামের দুই ব্যক্তিসহ তাদের অপর এক সহযোগী। রোববার (৬ মে) দুপুর ১২ টর দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, “প্রাইভেট কারের সামনের গ্লাসে “চ্যানেল আজাদী” লেখা স্টিকার লাগানো আছে। তারা রাণীরহাট বাজারের সাজ্জাদ বেকারিতে গিয়ে নিজেদের পরিবেশ আদালতের ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের চেষ্ঠা চালান।
অনেক দেন-দরবারের পর ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে সটকে পড়ার সময় সন্দেহ হলে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা তাদের ধাওয়া করে এক কিলোমিটার দুরে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের কাউখালী রাস্তার মাথা থেকে গাড়িসহ আটক করেন। এরপর তাদের রাণীরহাট বাজারে ধরে এনে বাজার কমিটির উপদেষ্ঠা কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি সোহেল চৌধুরীসহ ব্যবসায়িরা তাদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পরিচয় জানতে চাইলে তারা ভিজিটিং কার্ড প্রদশর্ন করেন।
এতে দেখা যায় এস এম মিজান উল্লাহ সমরকন্দি “দৈনিক আলোচিত কণ্ঠ” নামের একটি অখ্যাত পত্রিকার সম্পাদক ও পারভীন আকতার “স্বীকৃতি” নামের একটি সং¯’ার নির্বাহী পরিচালক। ইউপি চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ি নেতাদের চ্যালেঞ্জের মূখে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আর কখনো এধরণের কাজে জড়িত হবেননা এমন মুচলেখা দিয়ে ছাড়া পান বলে ব্যবসায়ি কমিটির কর্মকর্তরা জানান। এসময় তারা সাজ্জাদ বেকারী থেকে আদায় করা চাঁদাবাজীর ছয় হাজার টাকাও ফেরত দেন। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। রাণীরহাট বাজারের ব্যবসায়ি ফোরখ আহমদ জানান, তার মালিকানাধীন সাজ্জাদ বেকারীতে দুপুরের দিকে একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে এস এম মিজান উল্লাহ সমরকন্দি নামের এক যুবক সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র দেখতে চান। দোকানে অপরিস্কার ও পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান।
এসময় গাড়িতে দড়জা খুলে বসে থাকা এক মহিলাকে পরিবেশ আদালতের ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ভয় দেখাতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর মহিলাটি নেমে এসে আমাকে ধমকাতে থাকেন। পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা না দিলে জেলে দেবেন বলে জানান। অনেক দেন দরবারের পর ছয় হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে চলে যাবার সময় রশিদ না দেয়ায় সন্দেহ হলে ধাওয়া করেন ব্যবসায়িরা। তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। এবং মুচলেখা দিয়ে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেয়ায় ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী। এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এস এম মিজান উল্লাহ সমরকন্দি ও পারভীন আকতারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দেরীতে ঘটনাটি জানার পর ইসলামপুরের চেয়ারম্যানকে অভিযুক্তদের আটকে রাখতে বলা হয়। কিন্তু এর আগেই তাদের ছেড়ে দেন তারা।