চট্টগ্রাম, , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

admin

চকরিয়ায় দুর্নীতিবাজ আবাসিক প্রকৌশলীকে শাস্তিমুলক বদলী

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৯ ০১:৩৪:১৮ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৯ ০১:৩৪:১৮

চকরিয়া অফিস:

চকরিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলোকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী পরিদপ্তর (বিউবো’র) উপ-পরিচালক-১ মেহেরুন নেছা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলীর আদেশ দেওয়া হয়। তার বদলীর আদেশের খবর চকরিয়ায় জানাজানি হলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিন সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গায় এলাকায় সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা মিষ্টি বিতরণ করে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলোর বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছে। গত ১১ মার্চ চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সমশেরপাড়ার ব্যবসায়ি ছৈয়দ আলম চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলো সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে ছৈয়দ আলমের কাছ থেকে মিটার দেওয়ার নামে ১লাখ ৬০ হাজার ব্যাংক চেকের মাধ্যমে নিয়ে নেয়।

কিন্তু ওই টাকা নেওয়ার পর আরও ৫০হাজার টাকা ঘুষের জন্য এক বছর পর্যন্ত তাকে মিটার সরবরাহ করেনি। এমন কী তাকে অপমান করে বিদ্যুৎ অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়েরের পর এঘটনা বিভিন্ন সংবাদপত্রে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলো উল্টো মিথ্যা অভিযোগ এনে বাদিকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ কোর্টে পাল্টা করেন।

 

ওই মিথ্যা মামলায় ছৈয়দ আলমকে জেলও খাটিয়েছেন। ছৈয়দ আলম জেলে যাওয়ার পর গত ২৮ মার্চ চট্টগ্রামস্থ দুদকের গণশুনানীতে ছৈয়দ আলমের পুত্র মনছুর আলম মিন্টু উপস্থিত হয়ে ওই প্রকৌশলীর ব্যাপারে অভিযোগ উত্থাপন করেন। এসময় তিনি দুদকের কমিশনার ড. নাছির উদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অসহায় কান্নায় জড়িয়ে ধরেন। তার এই কান্নার ছবি সহ পরদিন সবকটি জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের কারণে পুরো বিদ্যুৎ বিভাগ বিব্রত অবস্থায় পড়ে যায়। এরপর থেকে বিভাগীয় ও দুদকের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে গত ৮ মে প্রকৌশলী আলোকে শাস্তিমূলক এ আদেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চকরিয়া বিদু্যুৎ সরবরাহ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলো প্রতিটি এলাকায় কিছু সংখ্যক দালাল সৃষ্টি করে আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মিটার প্রতি ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ঘুষের টাকা না দিলে মিটার ও বৈদ্যুতিক তার সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সময় পার করছেন মাসের পর মাস। এমন কি কারো কারো কাছ থেকে লাখ টাকা আদায়ের এক বছর পরও মিটার সরবরাহ দেয়া হয়নি বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ি ছৈয়দ আলম জানান, তিনি বিদ্যুতের মিটার নেয়ার জন্য আবাসিক প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলো’র পরামর্শে ওই অফিসের বিদ্যুত বিল সরবরাহকারী দেবানন্দ দত্তের নামে ১ লাখ ৬০ হাজার চেক প্রদান করেন। যার চেক নং-৩৪৬৬৪৫৭)। কিন্তু তাকে একবছর পরও মিটার দেয়া হয়নি। এ ঘটনায় তিনি চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। তাকে বদলীর করায় ছৈয়দ আলম বলেন, এদেশে আইন আছে এটাই তার প্রমাণ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী পরিদপ্তর (বিউবো’র) উপ-পরিচালক-১ মেহেরুন নেছা খানম স্বাক্ষরিত ওই আদেশে প্রকৌশলী ফয়জুল আলীম আলো আগামী ১৩ মে মধ্যে বিউবো’র পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল (উত্তর) চট্টগ্রামে সংযুক্তি হতে না পারলে তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *