চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

admin

যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান সালাউদ্দিন

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১১ ১৪:২৩:১৬ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১১ ১৪:২৩:১৬

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে নিখোঁজ হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৩-বি নম্বর সড়কের একটি বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সালাউদ্দিন আহমদকে ধরে নিয়ে যান।

দুই মাসের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর ১১ মে মেঘালয়ের গলফ গ্রিন এলাকায় ঘোরাফেরার সময় সালাহ উদ্দিনকে আটক করে ভারতের পুলিশ। সেখানে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে ‘ফরেনার্স অ্যাক্টে’ দায়ের করা মামলার বিচার চলছে। ওই মামায় জামিন পাওয়ার পর থেকে শিলংয়ের একটি গেস্টহাউসই তার ঠিকানা, গত দুবছরে দুটো বড় অস্ত্রোপচার সামলে এখনও সেখানেই তিনি আছেন।

ভারতের সালাউদ্দিনের নির্বাসিত জীবনের তিন বছর পূর্ণ হতে হলো আজ, শুক্রবার।

 

বিএনপির এই নেতা বরাবরই বলে আসছেন, অচেনা অপহরণকারীরাই তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং শিলংয়ের রাস্তায় ‘উদভ্রান্ত অবস্থায়’ তাকে উদ্ধার করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘স্বেচ্ছায় ভারতে আসেননি’ এটা প্রমাণ করে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যেতে চান তিনি।

 

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, কীভাবে তিনি ভারতে এলেন সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। ভারতের আদালতে কিন্তু অবৈধভাবে সে দেশে ঢোকার অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

 

‘আমি তো প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করছি কখন আমার দেশে ফেরত যাওয়া হবে। মামলাটা এখন আর্গুমেন্ট স্টেজে আছে, মানে রায়ের ঠিক আগের পর্যায়ে। ফলে বলতে পারেন চূড়ান্ত পর্যায়ের পৌঁছে গেছে, কিন্তু এখন খালি তারিখের পর তারিখ পড়ছে, শুনানিটা আর হচ্ছে না।

 

জাজমেন্টটা হয়ে গেলে বুঝতে পারতাম কখন দেশে ফিরতে পারব। সাজা হবে, না কি খালাস পেয়ে যাব। আর ছাড়া পেলেও তারপর তো সরকারি পর্যায়ে ডিপোর্ট করার দায়িত্ব থাকে। এ সব নিয়েও বেশ কিছুটা সময় নিশ্চয় যাবে। কিন্তু আমি চাইছি যত দ্রুত সম্ভব এখানকার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে আমি যেন বাংলাদেশে ফিরতে পারি।’

 

তিন বছর আগে ভারতে কিভাবে ঢুকলেন তিনি- সে বিষয়ে তিনি বলছেন, ‘এই বিষয়টা স্বেচ্ছায় ঘটেনি। যেমন ধরুন, সাগরে ঝড়ে পড়ে বা সাইক্লোনে দিক ভুল হয়ে কোনো জাহাজ যদি একটা দেশের সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে যায় তাহলে সেটা কার দোষ তা নিরূপণ করা কি খুব কঠিন? আমার ব্যাপারটাও অনেকটা সেরকমই।

 

আর এই জিনিসটা প্রমাণ করার চেষ্টাতেই আমরা আদালতে যতটুকু জোগাড় করতে পেরেছি, সেরকম সব নথিপত্রই জমা দিয়েছি। ধরুন জাতিসংঘের কার্যবিবরণী, আমেরিকার মানবাধিকার রিপোর্ট, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আর্লি ডে মোশন – কোনো কাগজপত্রই বাদ দিইনি।’

 

আদালতে বিচারাধীন বলে নিজের মামলার বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে চান না সালা, কিন্তু ভারতের আদালতে তিনি সুবিচার পাবেন এতদিনে এই বিশ্বাসও কিন্তু তার জন্মেছে।

 

‘দেখুন, নির্বাসিত জীবনে কে আর থাকতে চায়? থাকতে হয় বলে থাকা, তা ছাড়া উপায়ই বা কী? তবে এখানে আমি সবাইকে বেশ আন্তরিকই পাচ্ছি, এখানকার আদালতের ওপরও আমার বিশ্বাস আছে। ভারতে আমি দেখেছি যে বিচারবিভাগ অনেক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, বাইরের হস্তক্ষেপও তেমন চোখে পড়েনি। কাজেই আশা করছি আমি ন্যায় বিচার পাব।’

 

সব সময়ই দেশের সাথে, দলের সাথে, নেতাদের সাথে কথাবার্তা হয়, যোগাযোগ হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আমার কেন্দ্র থেকেও লোকজন এখানে আসা যাওয়া করেন। স্ত্রী-সন্তানরাও যখন পারেন, আসেন।

 

‘অনলাইনের সুবাদে বাংলাদেশের সব ঘটনাবলীর দিকেও নিয়মিত নজর রাখার সুযোগ হয়। আর তার ভিত্তিতে আমি পরিষ্কার বলতে চাই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মুক্তির জন্য সারা বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। আমার বিশ্বাস গণতন্ত্রের অবশ্যই জয় হবে।’

 

বিবিসি বাংলা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *