চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

admin

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন: নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান 

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৭ ১৭:৩০:২০ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৭ ১৭:৩০:২০

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ২০০৪ সালে ছাত্রশিবির কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিল। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায়। তাদের সেই ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা কোটা আন্দোলনের নামে ছাত্রদের রাজপথে আন্দোলনে নামিয়ে দিয়েছে। আর কোটা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা সাধারণ ছাত্রদের বিভ্রান্ত করছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৫ নম্বর জেটিতে রেলমাউন্টেন্ড গ্যান্দ্রি ক্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের এই আন্দোলনে ‘আমি রাজাকার’ লিখে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করাটা কোনো আন্দোলন নয়। স্বাধীনতাবিরোধীর সন্তানদের দেশপ্রেম নেই। যতই আন্দোলন করুন আর যাই করুক তারা সরকারি চাকরি পাবে না।

দেশ ও বন্দরের উন্নয়ন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সরকার বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সম্ভবপর সবকিছুই করবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট, কনটেইনার জট ও ইক্যুইপমেন্ট সংকট নিয়ে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সব সংকট কেটে উঠেছি। এখন বিশ্বের ১০০ কনটেইনার পোর্টের মধ্যে চট্টগ্রাম ৭১ নম্বরে উন্নীত হয়েছে। আগামীতে ১০ নম্বরের মধ্যে আসতে চাই। আরএমজি চলবে বিদ্যুতে। বায়ুদূষণের সুযোগ নেই। গ্রিন পোর্ট হবে। যেসব জাহাজ অবস্থান করে তাদের ইঞ্জিন চালিয়ে রাখতে হয়।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সেসব জাহাজে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নিচ্ছি। তাহলে বায়ুদূষণ হবে না। বাংলাদেশ সরকার উন্নয়নে বিশ্বাস করে।

এর আগে বন্দরের নতুন তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এগুলো হলো- ডলফিন অয়েল জেটি, দশটি হ্যন্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট এবং নিরাপত্তা ভবন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিটাগাং চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে লাইটারেজ জাহাজ সংকটের কারণে পণ্য উঠানামায় অনেক সময় লেগে যায়। পণ্য খালাস হতে দেরি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই সমস্যার সমাধান এখন সময়ের দাবি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, কর্ণফুলী বাঁচলে বন্দর বাঁচবে। অনতিবিলম্বে ড্রেজিং শুরু করতে হবে। আমি একটি মাদার ভ্যাসেল এনেছি। ৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। জেটি ও লাইটার জাহাজ সংকট নিরসন করতে হবে। টার্মিনালের কাজ শুরু করতে হবে। এটি হলে চট্টগ্রাম বন্দরকে পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, ডলফিন অয়েল জেটি, দশটি হ্যন্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট এবং নিরাপত্তা ভবনের উদ্বোধনের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেল। এতে বন্দরের কাজে গতিশীলতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। নতুন জেটি হওয়ায় বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য মো. জাফর আলম, কমডোর খন্দকার আকতার হোসেন, কমডোর শাহিন রহমান, কামরুল আমিন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তারিকুল ইসলামসহ অনেকে। – পরিবর্তন ডটকম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *