চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

admin

রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতি’র বালুদস্যুরা বেপরোয়া 

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৭ ০০:৪২:১২ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৭ ০০:৪২:১২

 

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: 

রাঙ্গুনিয়ার ইছামতি নদী থেকে বেপরোয়া ভাবে বালি উত্তোলন করছে এক বেণির অসাধু বালুদস্যুরা। সরকারের ইজারাবিহীন বালুমহাল থেকে বিভিন্ন সময় তারা সরকারি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পদ পদবীর দোহায় দিয়ে নিয়মিত বালু লুঠ করছে ইছামতি নদী থেকে। ইছামতি ছাড়াও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে সিন্ডিকেট করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি টাকা আয় করলেও বালু উত্তোলনের কারণে ভেঙ্গে যাচ্ছে তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

 

এদিকে প্রশাসন কিংবা বালু উত্তোলনকারীদের ভ্রুক্ষেপ নেই। তাদের বেপরোয়া বালি উত্তোলনের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্পটে নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বালুর ট্রাকের কারণে দেবে গিয়ে তীব্র খানাখন্দকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার প্রায় শতাধিক স্পটে প্রতিনিয়ত ইজারা বিহীন স্থান থেকে বালু উত্তোলন চলছে দেদারছে। অন্যদিকে বালুদস্যুদের হুমকির কাছে অসহায় স্থানীয় জনসাধারণ। বেপরোয়া এই বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও তাদের দমানো যাচ্ছে না বলে প্রশাসন সূত্র জানায়। দক্ষিণ রাজানগর ইউপি সদস্য আবদুল কাদের তালুকদার বলেন, ফুলবাগিচা এলাকায় বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার ফসলি জমি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীতে প্রায়ই ভেঙে গেছে শিয়ালবুক্কা সংলগ্ন সর্দার পাড়া সড়ক।

 

পারুয়া ডিসি সড়কও ইছামতী খালের ভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বেপরোয়া বালু উত্তোলন বন্ধে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দিয়েছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, শিয়ালবুক্কা ব্রিজের নিচ থেকে বালি উত্তোলনের সাথে জড়িত রয়েছে শুভ, বেজাউল করিম, আইয়ুব আলী, মিজান নামে কয়েকজন যুবক। তারা সবাই সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। দলের নাম বিক্রি করে তারা দীর্ঘদিন এই স্থানে বালু উত্তোলন করে আসছে। অন্যদিকে এর আধাকিলোমিটার দক্ষিণে বালি উত্তোলন করছে নজরুল ইসলাম ও নাছির উদ্দিন নামে দুই ভাই। তারা নিজেদের যুবলীগ নেতা বলে দাবি করেন এলাকায়। তাদের বেপরোয়া বালু উত্তেদালনের কারণে ইছামতি নদীতে অনেক ফসলি জমি বিলীন হয়েছে গত কয়েক বছরে।

 

তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে বালু উত্তোলন করলেও এখন ড্রেজার মেশিন সড়িয়ে ফেলেছি। আগের উত্তোলনকৃত বালুগুলো আমরা এখন বিক্রি করছি মাত্র।

এদিকে পারুয়া ইউনিয়নের রাবারড্যাম সংলগ্ন ইছামতী নদী থেকেও বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ রাবার ড্যামের পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জহুরুল হক বলেন, ‘আইন অনুযায়ী রাবার ড্যামের দুই পাশের দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বালু উত্তোলনের কোন নিয়ম নেই। যারা এখানে বালি উত্তোলন করছে তাদের এটা বন্ধ করতে বলা হলেও শুনছেন না কেউ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *