admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৮ ০৪:৩৭:৩২ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৮ ০৪:৩৭:৩২

হাফেজ মুফতি আহসান শরিফ:
ফিরে এলো পবিত্র রমজান। মুমিন হৃদয় ১১ মাস অপেক্ষায় থাকে যার। কখন দেখবে আকাশে সরু বাঁকা চাঁদের হাসি। আসবে রমজান। খতমে তারাবিহতে শুনবেন মধুর তিলাওয়াত। রাত জেগে নেবেন ইবাদতের স্বাদ।
রমজানকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় মুসলিম বিশ্ব। জামা, টুপি, তাসবিহ, জায়নামাজ ধুয়েমুছে রাখেন। মসজিদ, নামাজের ঘর এবং হাটবাজারেও দেখা যায় এ প্রস্তুতির ছোঁয়া। রমজান এলেই ব্যবসা, কাজকর্ম বা দুনিয়ার সব ঝামেলা চুকিয়ে মুমিন বান্দা নিজেকে মগ্ন করেন ইবাদতে।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। তিনি পড়তেন, আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগ না রামাদান। হে মাবুদ, রজব এবং শাবান মাসে আমাদের জন্য বরকত দান করুন। রমজান পর্যন্ত আমাদের হায়াত দীর্ঘ করুন।
নবীজি (সা.) রমজানের জন্য অধীর আগ্রহে কেন থাকতেন? কেন আকাক্সক্ষা করতেন রমজান আসুক, আমি তা পেয়ে যাই। কারণ ছিল, আল্লাহ রমজান মাসকে নিজের মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
রমজানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এ মাসে রোজা ফরজ করা হয়েছে। এ মাসে তারাবিহের নামাজ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এর তাৎপর্য এখানেই শেষ নয়। মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণা (নিজের মাস) এ ক্ষেত্রে আরও অধিক তাৎপর্যময়। যেসব বান্দা এগারো মাস পার্থিব ব্যস্ততায় গাফিলতের নিদ্রায় বিভোর থাকে এবং আল্লাহ থেকে দূরে থাকে- এ এক মাসে আল্লাহ তাদেরকে নৈকট্য দান করেন। তাদেরকে ডেকে ডেকে বলেন, বান্দা, তোমরা আমার নৈকট্য থেকে বহু দূরে পড়ে ছিলে, দুনিয়ার ধ্যান-খেয়াল নিয়ে ব্যস্ত ছিলে। তোমাদের চিন্তা-চেতনা, তোমাদের কাজকর্ম, তোমাদের দৌড়ঝাঁপ, সব দুনিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এখন আমি তোমাদের একটি মাস দান করছি, এ মাসে তোমরা আমার কাছে এসে পড় এবং সিয়ামি জীবনযাপন কর। আমি তোমাদেরকে নৈকট্য দান করব। কেননা, এটি আমার নৈকট্য অর্জনের মাস।
রমজানের চাঁদ দেখাও একটি ইবাদত। ইফতারের সময় শুরু হলেই ইফতার করা এবং সেহরির শেষ সময়ে সেহরি খাওয়া এগুলোও ইবাদত। ইফতারির সময় হয়ে গেলে বিলম্ব করা করা ঠিক নয়।
বাইহাকি ৩৬০২নং হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আগের কোনো উম্মতকে দেয়া হয়নি।
রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়ে উত্তম। রোজাদারের প্রতি আল্লাহ এত বেশি খুশি হন, তার কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে মন্দ লাগে না। রোজাদার আল্লাহর প্রিয় হন বলে তার সবকিছুই আল্লাহর প্রিয় হয়ে যায়। রোজাদারের জন্য ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করতে থাকেন। রোজাদারের জন্য ফেরেস্তারা প্রতিদিন জান্নাতকে নতুন করে সাজাতে থাকেন।
রমজান মাসে বড় বড় শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়। এতে অন্য মাসের মতো এ মাসে শয়তান সায়েমকে ধোঁকা দিতে পারে না। রমজান উপলক্ষে রোজাদারদের ক্ষমা করা হয়। বিশেষ করে শেষ দিনে তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।
এ ছাড়া রমজান মাসে সব রকম নেক আমলের সওয়াব বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানের একটি ওমরা অন্য মাসে একটি হজের সমতুল্য। [বুখারি ও মুসলিম]
রমজানের এসব মর্যাদা অর্জনের জন্য রোজা সহিহভাবে আদায় করতে হবে। রোজার হক পুরোপুরিভাবে আদায় করা জরুরি। মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। পরনিন্দা, সমালোচনা, পরের হক নষ্ট করা, গালি দেয়া, গান শোনা, চোখের অপব্যবহার এবং সবরকম অপকর্ম ও অনর্থক কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এই রমজানে আমরা যেন নিজের জীবনকে নবীজির (সা.) আদর্শে ঢেলে সাজাতে পারি। রমজানের মর্যাদা লাভ করে সবাই যেন ধন্য হতে পারি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।
লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল বালাগ ঢাকা
ই-মেইল : ahsan778@gmail.com
সূত্র – যুগান্তর