admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৩ ১৪:৫২:৫৬ || আপডেট: ২০১৮-০৫-২৩ ১৪:৫২:৫৬

ফারুক খান তুহিন :
মাদক বিরোধী অভিযানে প্রথম বন্দুকযুদ্ধ চর্চা করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দূতার্তে । ২ বছরের অনুমোদিত অভিযানে তিনি শত শত মাদক চোরাকারবারিকে হত্যা করেছেন । কিন্তু ফিলিপাইন কি আদৌ মাদক মুক্ত হয়েছে? একেবারেই না । উপরন্তু তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা চলছে । আইসিসি’র দন্ড থেকে বাঁচতে রোম চুক্তির আওতা থেকে ফিলিপাইনকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি । কিন্তু কাজ হয়নি ।
পরের কথা বাদ দিয়ে এবার ঘরের কথা বলি । সম্প্রতি বাংলাদেশেও মাদক বিরোধী কথিত বন্দুকযুদ্ধ চলছে । গত তিন দিনে সারাদেশে মাদক চোরকারবারীর মৃত্যুর সংখ্যা ডজন ছাড়িয়েছে । একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে র্যাপিট এ্যাকশান ব্যাটালিয়ান ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে নেমেছে । কিন্তু মাদক বিরোধী এ কৌশলটা কার্যত আইনসিদ্ধ নয় । একমাত্র আদালত ছাড়া মৃত্যুদন্ড দেয়ার অধিকার কারোই নেই ।
বন্দুকযুদ্ধ তখনই হয়, যখন উভয় পক্ষের বন্দুক থাকে । কিন্তু মাদক চোরাকারবারি, ব্যবসায়ী কিংবা সেবনকারীরা যে বন্দুক রাখে তা আমাদের জানা ছিলনা । আগে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে । কিন্তু এখনো আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী বলতে পারছেনা দেশ জঙ্গিমুক্ত হয়েছে ।
তারও কিছু আগে অস্ত্র উদ্ধারের নামে জামায়াত-বিএনপি, শিবির ও আওয়ামী বিদ্রোহীদের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধ হয়েছে । এক তরফাভাবে মারা গেছে কথিত অপরাধীরা !
বন্দুকযুদ্ধের প্রকৃত সংজ্ঞাটা আমার জানা নেই । ধারণাও নেই । তবে বাংলা সিনেমায় কিছু বন্দুকযুদ্ধ দেখানো হত এভাবে – অপরাধীকে ধরে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হত । তারপর বলা হতো তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হল পালিয়ে যাও । অপরাধী যখন পালাতে থাকে তখন পেছন থেকে গুলি ছুঁড়ে আইন শৃংখলা রক্ষিরা । আরেকটা রিভলবার দিয়ে নিজের হাতে বা পায়ে একটা গুলি করে বন্দুকযুদ্ধের প্রমাণ তৈরী করে আইন রক্ষি সদস্য । এসব সিনেমার কথা ! বাস্তবে এমনটি করতেই পারেননা আমার দেশের র্যাব-পুলিশরা !
বন্দুকযুদ্ধ চলতেই থাকুক, তবে ১০ টাকার মাতাল ও ১০০ টাকার মাদক বহনকারীদের বিরুদ্ধে নয় । গডফাদার, রাজনীতিবিদ, মাফিয়া, ডন ও সরকারি বাহিনীর কতিপয় সদস্য যারা মাদকের সাথে যুক্ত থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে হোক যুদ্ধ ।
Email : faruque.bandarban@gmail.com