চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

admin

বন্ধুর কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকার তথ্য পেয়ে বাবাকে খুন !

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০১ ০৪:১৮:৪১ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০১ ০৪:১৮:৪১

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

খুন হওয়ার কয়েক দিন আগে রূপালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার সজল নন্দীর ছেলে সজলের কাছ থেকে ছেলের বন্ধুরা জানতে পেরেছিল যে সজলের বাবা ব্যাংক থেকে ২৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এই তথ্য জানার পর সজলের বন্ধু প্রতীক তার বন্ধু জিকু ও জয়কে জানায়।

এরপর তিন জন মিলে পরিকল্পনা করে- টাকাগুলো যে কোনোভাবেই হোক লুট করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বাড়িতে গিয়ে টাকা লুট করতে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলাকেটে হত্যা করে তার ছেলের বন্ধুরা।এই ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআইর একটি টিম।

 

গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে জিকু রায় চৌধুরী (১৬) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নানুপুরের তপন রায় চৌধুরীর ছেলে।  জয় বড়ুয়া চৌধুরী (১৯) পটিয়ার ভাটিখাইন ঠেগরকুনি এলাকার অজিত বড়ুয়ার ছেলে। আর প্রতীক মজুমদার (১৬) নেয়াখালীর বেগমগঞ্জের গোপালপুর এলাকার ডা. উজ্জ্বল চন্দ্র মজুমদারের ছেলে। এদের মধ্যে প্রতীক নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা সজল নন্দীর ছেলে সৈকতের বন্ধু; সে নগরীর একটি  স্কুলে সৈকতের সাথে নবম শ্রেণিতে পড়ে। এবার এসএসসি পাশ করেছে জয়, আর জিকু এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

জানা গেছে, গত ২৭ মে সকাল সাড়ে ৮টায় সজলের ছেলের জন্য সাইকেল কেনার আগ্রহের কথা জানাতে এই ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় প্রবেশ করে তিন বন্ধু। এর আগেই কর্মস্থলে চলে যান স্ত্রী রুমা দে। ঘরে সজল ব্যতীত আর কেউ ছিল না। সৈকতের সাইকেলের দরদাম নিয়ে বাসার মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু করে বন্ধুর বাবার সাথে। তখন কৌশল বুঝে দরজায় তালা দিয়ে সজলের মাথায় আঘাত করে জিকু। সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে উঠেন সজল। এসময় পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে প্রতীক।

এ সময় সজলের পা গামছা দিয়ে বাঁধে জিকু ও জয়। এরপর সঙ্গে আনা ছোরা দিয়ে সজলের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে জয় বড়ুয়া। পরে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের ২৯ লাখ টাকা পেতে ঘরে তল্লাশি চালায়। তবে সে টাকা খুঁজে পায়নি তারা। আর টাকা না পেয়ে সজলের প্যান্টের পকেটে থাকা ব্যাংকের সব চাবি নিয়ে স্থান ত্যাগ করে তিন বন্ধু প্রতীক, জিকু ও জয়।বৃহস্পতিবার দুপুরের পর পিবিআইর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর থানার সল্ট গোলা ক্রসিং এলাকার ভাড়া বাসায় ব্যাংক কর্মকর্তা সজল নন্দীর খুনের ঘটনায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ সময় খুনে অংশ নেয়া সজলের ছেলে সৈকতের তিন বন্ধুকে হাজির করা হয় মিডিয়া কর্মীদের সামনে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্দ্বীপ কুমার দাশ বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই স্বীকার করেছে সজলের ঋণের ২৯ লাখ টাকা লুট করতে গিয়ে তারা এই খুন করেছে।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, নবম শেণিতে পড়ুয়া সজল নন্দীর ছেলে সৈকত এ বিষয়ে কিছুই জানতো না।

গ্রেফতার করার পর তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বন্দর থানাধীন মাইলেরমাথা নামক এলাকার হাজী শামসুল হকের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করা হয়েছে। চাবিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে বন্দর থানাধীন সল্টগোলা ক্রসিংয়ের ধোপপুল এলাকায় হাজী বাড়ির ভাড়া ঘর থেকে সজল নন্দীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি রূপালী ব্যাংক সল্টগোলা ক্রসিং শাখার ক্যাশিয়ার ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *