admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৩ ০৩:১০:৪৮ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০৩ ০৩:১০:৪৮

বীর কন্ঠ ডেস্ক :
কক্সবাজারের টেকনাফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিদের ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেলে টেকনাফ সীমান্তের মৌলভীপাড়ার ‘রাজপ্রাসাদ’ হিসেবে খ্যাত বেশ কয়েকটি ‘ইয়াবা বাড়িতে’ পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বাড়িগুলোতে কাউকে পায়নি তারা।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘ইয়াবা কারবারির বেশ কয়েকজন তাদের বাড়িতে আছে মর্মে খবর পেয়েই ছুটে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকেই পেলাম না।’ ওসি জানান, ইয়াবা কারবারিদের ঘরে অস্ত্রশস্ত্রও মওজুদ থাকে। তাই ৫০ সদস্যের পুলিশ সদস্যের দল নিয়ে অভিযান চালানো হয়। রাসেল নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
ওসি আরো জানান, তিনি যখন মৌলভীপাড়ার সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং দৃষ্টি আকর্ষণকারী বাড়িটির গেটে পৌঁছেন তখন বাড়িটির বাইরে ও ভেতরের সব গেটেই তালা লাগানো দেখতে পান। ভেতরে-বাইরে কোনো পাহারাদার পর্যন্তও ছিল না।
ওসি বলেন, অভিযানের সময় এলাকার এক ব্যক্তি এসে তাঁকে (ওসি) বলেন, ‘স্যার বিশ্বাস করবেন, আমাদের পাড়ার কারবারি আবদুর রহমান শখ করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বাড়িটি বানিয়েছেন। কিন্তু তিনি এক রাতের জন্যও শখের বাড়িটিতে ঘুমাতে পারেননি। আজ ওখানে কাল সেখানে রাত কাটান তিনি।’
পুলিশের দলটি টেকনাফ সদরের মৌলভীপাড়া এলাকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি হাজি ফজল আহমদের দুই ছেলে একরাম ও আবদুর রহমান, এলাকার মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম প্রকাশ কালা ও জাফর আলমের রাজপ্রাসাদে হানা দেয়। তবে কারবারিরা বাড়িতে না থাকায় তাদের কাউকেই আটক করা যায়নি।
এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আরো জানান, মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে ইয়াবা কারবারিরা দুবাই, মালয়েশিয়া, ভারত ও ওমরাহ পালনের নামে সৌদি আরবে পালিয়ে গেছে। অনেকে ট্রলারযোগে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন জানান, কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত ইয়াবা বন্ধ না হবে, ততক্ষণ এ অভিযান চলবে।’ সূত্র – কালের কণ্ঠ