চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

admin

পটিয়ায় ঈদকে সামনে রেখে মার্কেট গুলোতে ক্রেতার উপচে পড়া ভীড়

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৬ ২২:১৭:০৫ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০৬ ২২:১৭:০৫

আবদুল হাকিম রানা, পটিয়া :

ঈদের দিন যতই এগিয়ে আসছে পটিয়ার মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সাধারণের উপচে পড়া ভীড় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৩ সপ্তাহ ধরে পটিয়ায় বিরূপ আবহাওয়ায় থেমে থেমে বৃষ্টি, আবার কখনো তীব্র তাপদাহ ক্রেতাদের তাদের উৎসবের পণ্য ক্রয় থেকে ÿনিকের জন্যও নিবৃত করতে পারেনি। যতই ঈদের দিন এগিয়ে আসছে ক্রেতাদের বাধ ভাঙ্গা জোয়ারে দÿিণ চট্টগ্রামের প্রান কেন্দ্র এই পটিয়ায় উৎসবের আমেজ পূর্ণতা লাভ করতে যাচ্ছে। অতীতে রমজানের মাঝামাঝি সময়ে উৎসবের পণ্য বিকিকিনি হলেও এবার প্রথম রমজান থেকেই ক্রেতারা পটিয়ার মার্কেটগুলোতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের পছন্দের পণ্যটি ক্রয় করা শুরু করলে দোকানীরা এবার রেকর্ড সংখ্যক পণ্য বিক্রয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

বলতে গেলে পটিয়া দÿিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা এবং অন্যান্য উপজেলাগুলোর মধ্যবর্তী হওয়ায় এখানে শুধু পটিয়া নয়, অন্যান্য উপজেলা গুলো থেকেও ক্রেতারা প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট গুলোতে জমজমাট বিকিকিনি করছেন বলে দোকানী ও অধিকাংশ ক্রেতারা জানান। তবে বর্তমানে কিশোরী ক্রেতারা গ্রাউন এবং ফ্রক ক্রয়ের দিকেই বেশী ঝুকছেন বলে দোকানীরা জানান।

জানা যায়, পটিয়ার মার্কেট গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেজেছে এবারও পটিয়া নিউ মার্কেট। স্কেলেটর লিফট সমৃদ্ধ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ মার্কেটে ক্রেতাদের সব ধরনের পণ্যের সমাহার ঘটানো হয়েছে। এর পরেই পটিয়া সিটি সেখানেও ক্রেতারা রাতদিন তাদের পছন্দের পণ্য ক্রয় করছে। তার পরেই পটিয়া শাহ তৈয়বীয় মার্কেট, রহমান মার্কেট, গুলজান সুপার মার্কেট, আবুল কাশেম মার্কেট, রহমান মার্কেট, পটিয়া সুপার মার্কেট, আলম প্লাজা, হাজী  শপিং মল, শাহ আমির মার্কেট, চৌধুরী মার্কেট, ননী সুপার মার্কেট, ছমদীয়া সুপার মার্কেট এর দোকানগুলোতে এবার বিভিন্ন পণ্যের পসারী সাজিয়ে দোকানীরা এবার বেশ চুটিয়ে ব্যবসা করছেন বলে সূত্রে প্রকাশ। অধিকাংশ দোকানী জানান, এবার ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দের ধরন ও রুচি অনেক বদলেছে।

অধিকাংশ ক্রেতা ও দোকানীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, এবার ঈদ বাজারে পুরুষদের শার্টের পাশাপশি প্যান্টের মধ্যে ডি এস আর, এসটিকে, ডাইসেন, পোমা, হিরো, বø্যাক। ছোট থেকে বড় মেয়েদের জন্য থ্রি-পিছের মধ্যে এবার বাজার দখল করেছে গ্রাউন, দিলওয়ালী স্কাট, লং ফ্রগ, লেহেঙ্গা, ফেন্সি ফ্লক। নারীদের জন্য রয়েছে বেনারশী শাড়ী, কাবরী, জামদানী, গ্যাস কাতান, ¯িøক, দুপিয়ান ইত্যাদি। এছাড়াও দেশি-বিদেশী শাড়ির বিপুল সম্ভারে সাজানো হয়েছে এখানকার সব দোকান। শাড়ি থ্রি-পিছের পাশাপাশি প্রসাধনী, পারফিউম, কসমেটিক সামগ্রী, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করছেন ক্রেতারা। পটিয়া রহমান মার্কেটের মনিহারের মালিক আবুল হাশেম মিন্টু বলেন, আমা দোকানে ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দামের বিভিন্ন ধরণের গ্রাউন পোষাক এবং ফ্রগ এর সমাহার রয়েছে। ১০ রমজানের পর থেকেই ক্রেতার ভীড় লÿ্য করছি। আশা করি রমজানের শেষ দিকে আমরা আরো ভাল ব্যবসা করতে পারব। ফ্যাশন প্লাজার মালিক আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের দোকানে নারী-পুরুষের পছন্দের শার্ট, প্যান্ট, ফ্রগ ও বিভিন্ন গ্রাউনের পোষাক রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর পরেই পটিয়ার মার্কেটগুলো ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় দিন দিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে।

আল হোসাইনের মালিক জামাল উদ্দিন বলেন, বেনারশী শাড়ী সহ বিভিন্ন শাড়ি এখন ৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ননী সুপার মার্কেটের মনে রেখ’র মালিক, মোঃ ইমরান বলেন, আমাদের দোকানে ৫-৫০ হাজার টাকা দামের বিভিন্ন ধরনের শাড়ী মজুদ রয়েছে। এছাড়াও ক্রেতাদের পছন্দ ও রুচির দিকে মনযোগ দিয়েই এবার দোকানীরা তাদের দোকান সাজিয়েছেন নিত্য-নতুন ডিজাইনের দেশি-বিদেশি কাপড়, জুতা, প্রসাধনী সামগ্রী দ্বারা। বরাবরের মতো এবারো ঈদের পোশাক বাজারে ভারতীয় ছবি, সিরিয়ালের নামে জামার প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক রয়েছে। জুতার দোকানেও লেগে আছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভীড়।

পটিয়া নিউ মার্কেটের জিলানী শাড়ীর মালিক মো: হাসান বলেন, আমরা ক্রেতাদের পছন্দের অনেক শাড়ী ও থ্রি-পিছ মজুদ করেছি। এ মার্কেটের চিত্রী ফ্যাশনের মালিক ইকবাল আহমদ ছিদ্দিকী বলেন, দেড়-দুই হাজার টাকার মধ্যেই ক্রেতারা যাতে ভালো ও উন্নতমানের পোশাক সহ তাদের পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে পারে সেই ব্যবস্থা চিত্রী ফ্যাশনে রাখা হয়েছে। আমরা অতিরিক্ত লাভের মানসিকতা নয়, সেবার মানসিকতায় এ দোকানে ব্যবসা করছি। আর এন মার্কেটের আল হোসাইনের মালিক জামাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা দোকানে ভীড় করছে। আমাদের দোকানে সব ধরনের শাড়ী ও থ্রি-পিছ রয়েছে। আমাদের দোকানে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদ বাজার নিয়ে যোগাযোগ করা হলে পটিয়া দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী এম এ ইউছুফ বলেন, সব মার্কেটে এখন উৎসব চলছে। শুধু পটিয়া নয়, দÿিণ চট্টগ্রামের সব জায়গা থেকে ক্রেতারা পটিয়া মার্কেটে ভীড় করছে। আমরা প্রশাসনকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছি। সেই মতে নিয়মিত পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে। এখানে কোন বখাটের উৎপাত নেই। মার্কেট গুলোতে নেই কোন চাঁদাবাজেরও উৎপাত নেই। সব মিলিয়ে পটিয়ায় এখন ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে। ঈদের নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নেয়ামত উলøাহ জানান, পটিয়ায় ক্রেতাদের নির্বিঘœ ঈদ বাজার নিশ্চিত করতে সার্বÿনিক পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও চাঁদাবাজ এবং বখাটের উৎপাত দেখা যায়নি। আমরা ব্যবসায়ীদেরকে সাথে মতবিনিময় করে তাদের মতামত গ্রহণ করেছি এবং সেই মোতাবেক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে পটিয়াকে ঢেকে দিয়েছি। ঈদ পর্যন্ত এখানে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এ ধরণের কর্মকান্ডে জড়িত হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আশা করি পটিয়ার জনগণ নির্বিঘেœ এবার ঈদ উৎসবে পছন্দের পণ্য বিকিকিনি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *