Faruque Khan
Executive Editor
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৯ ১৯:২২:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০৯ ১৯:৩১:১৮

ঢাকা, বীরকন্ঠ :
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে ইতোমধ্যে জবানবন্দি দিয়েছে ভন্ডপীর ও প্রতারক আহসান হাবিব পেয়ার । তার বিরুদ্ধে চার্জশীটও প্রস্তুত করেছে পুলিশ । ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য হাতে আসলে চার্জশীট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ ।
এদিকে জবানবন্দিতে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে আহসান হাবিব পেয়ার । নিঃসঙ্গ জীবন-যাপনকারী নারীরা ছিল মূল টার্গেট। দুই নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সম্প্রতি পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকার বিনিময়ে দেশ-বিদেশে নারী বিশেষ করে যারা একাকী জীবন-যাপন করে তাদের সঙ্গে ভিডিও চ্যাটিং করতাম। এছাড়াও সাংসারিক ও পারিবারিক জীবনে যেসব নারী সমস্যায় ভুগছেন তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতাম। এভাবেই শতাধিক নারীকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে ভিডিও চ্যাটিংয়ে প্রলুব্ধ করতাম। তাদের কৌশলে বাসায় ডেকে নিতাম। ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতাম। সে সবের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিতাম মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা দিতে রাজি না হলে ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়ারও হুমকি দিতাম।
উল্লেখ্য, বেশ কয়েকজন নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গতবছরের ১ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁও থেকে ভণ্ডপীর আহসান হাবিব পিয়ারকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ওইদিনই তার বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমের সহকারী উপ-পরিদর্শক লুৎফর রহমান।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ আগস্ট ঢাকার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত দু্ই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন পিয়ারের।
দুদিনের রিমান্ড শেষে ৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম এ কে এম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকীর আদালতে পিয়ার ঘটনার স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।