চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

admin

কাপ্তাইয়ের দুই স্থানে পাহাড় ধ্বস, খোলা হয়েছে অাশ্রয়কেন্দ্র, অাতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১১ ০০:৪৬:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১১ ০০:৪৬:২৯

মো. নূর হোসেন মামুন, কাপ্তাই:

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় গত দুই দিন যাবত থেমে থেমে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। অাজ বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সাথে ব্যাপক হারে বেড়েছে বজ্রপাতও। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে চন্দ্রঘোনার মাস্টার কলোনী ও কয়লার ডিপু এলাকা। পাহাড় ধ্বস হয়েছে চন্দ্রঘোনার মিতিঙ্গাছড়ি ও কাপ্তাইয়ের লকগেইট এলাকায়। তবে এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পাহাড় ধ্বস হলেও এখনও কোন ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে প্রচুর বৃষ্টি অার বজ্রপাতে পাহাড় ধ্বসের অাতঙ্কে রাত কাটাতে যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির জনসাধারণেরা। উপজেলা প্রশাসন থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সড়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেক এলাকার মসজিদের মাইকে বলা হলেও অাশ্রয়কেন্দ্রগুলো ঘুড়ে তেমন কাউকে দেখা যায়নি। এদিকে কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের অাশ্রয় কেন্দ্রে রাত এগারোটায় স্বরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অাশ্রয়কেন্দ্র খোলা থাকলেও নেই বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা। দায়িত্বে থাকা শাহবাজ অালী নামক এক ব্যক্তি জানান, বিদ্যুৎ এর ভোল্টেজ না থাকায় বাতি জ্বলছেনা। তবে বিদ্যুৎ অাছে।

এদিকে অাজ রাত সাড়ে নয়টার সময় চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসুর বাড়ির উপর পাহাড় ধ্বসে পড়ে। পাহাড় ধ্বসের পূর্বে ঝুঁকিগ্রস্থ দু’পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে নেওয়ায় জীবন নাশের হাত থেকে প্রথম পর্যায়েই বেঁচে যায় পরিবারের সদস্যগুলো বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন। এছাড়া কাপ্তাই ইউনিয়নের লকগেইট এলাকায় অাজ রাত সাড়ে এগারোটায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের খবর অাসনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সজিবুর রহমান।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কাপ্তাই উপজেলার লক গেইট, ঢাকাইয়া কলোনী, কার্গু এলাকা, শিল্প এলাকা, স্বর্ণটিলা, অাবসারের টিলা, মুসলিমপাড়া, ব্যাঙছড়ি, শিলছড়ি, হাজির ট্যাগ, বড়ইছড়ি, মিতিঙ্গাছড়ি, ওয়াগ্গার সাপছড়ি, মুরালী পাড়া, কুকিমারা, হরিণছড়ি, কলাবাগান, রাইখালী বাজার, শিতা পাহাড়, মাইদং, তিনছড়ি, জগনাছড়ি, ছাপছড়ি সহ বিভান্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে ১০ হাজার পরিবার। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া হালকা বৃষ্টি আজ রোববার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে হচ্ছে। আর তাই গত বছরের পাহাড় ধসের আতঙ্ক তাড়া করছে ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের। গত বছরের ১৩ই জুন পাহাড় ধ্বসে কাপ্তাইয়ে নিহত হয়েছে ১৮জন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে কোটির অধিক। এভাবে বৃষ্টি হওয়ায় এই বছরেও এমন ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের অশঙ্কার করছে স্থানীয়রা। তবে অাশঙ্কার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করা জনসাধারণকে নিরাপদ সড়িয়ে নিতে পূর্ণঃবাসনের কোন ইঙ্গিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন বলেন, বৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের নিরাপদে রাখতে ইতিমধ্যে কাপ্তাই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে খোলা হয়েছে অাশ্রয় কেন্দ্র। তাঁদের (ঝুঁকিপূর্ণদের) অাশ্রয়কেন্দ্রে দ্রুত চলে যেতে অামি নিজে উপস্থিত থেকে মাইকিং করেছি। এছাড়া প্রতিটি এলাকার মসজিদগুলোতেও মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সড়ে যেতে বলা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন জানান, খুব চিন্তিত অাছি। কোন মুহুর্তে কি ঘটে তা নিয়ে খুব অাতঙ্কে অাছি। অাশ্রয়কেন্দ্রগুলো খোলা রয়েছে। প্রশাসন, ডিফেন্স সহ সবাই প্রস্তুত অাছে। অাল্লাহ ভরসা ইনশা অাল্লাহ কোন ক্ষয়ক্ষতি হবেনা।

লক গেইট এলাকার বাসিন্দা কামাল মিয়া বলেন, কাপ্তাইতে গত শুক্রবার থেকে আবারও বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সবার মনে আতঙ্ক বেড়ে যায়। কিন্তু কোথায় যাব বউ, ছেলে নিয়ে?

মিতিঙ্গাছড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহেদ হোসেন বলেন, গত বছর নিজের চোখে দুর্ঘটনা দেখেছি, তাই এখন আমরা সবাই ভয়ে আছি। রাতে বৃষ্টি হলে বসে থাকি। কখন না জানি কী হয়ে যায়।

এদিকে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র পরিচালক ফিরোজ কুতুবী জানান, গত বছরের পাহাড় ধসের কথা মাথা রেখে আমরা এখন থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। পর্যাপ্ত উদ্ধারকারী সরঞ্জাম মজুদ রাখা হয়েছে এবং জনবলও প্রস্তুত রয়েছে। যেকোন মুহূর্তে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত।

চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান অানোয়ার ইসলাম চৌধুরী বেবি জানান, চন্দ্রঘোনার মাস্টার কলোনী ও কয়লার ডিপু এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গিয়েছে। মিতিঙ্গাছড়িতে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *