চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

admin

বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১১ ১৩:০০:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১১ ১৩:০০:০৮

বীর কন্ঠ ডেস্ক  :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত দিতে ফের কানাডা সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ জানান।

পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে দ্রুত ফেরত দিতে জাস্টিন ট্রুডোর ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি গুলি করা দু’জনের মধ্যে অন্যতম এই নূর চৌধুরী।’ খবর: বাসস।

শেখ হাসিনা কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, নূর চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি। তিনি নিজে এই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং বাংলাদেশের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।ইহসানুল করিম জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জাস্টিন ট্রুডো জানান— শেখ হাসিনার জন্য পিতা হত্যার কষ্টটা কত, তা তিনি বুঝতে পারছেন।

তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নূর চৌধুরী ইস্যুতে তার দেশের কর্মকর্তারা ঘনিষ্টভাবে জড়িত রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কোনো ব্যক্তিকে ফেরতের বিষয়ে কানাডার আইনগত অবস্থানও এ সময় শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরেন ট্রুডো।তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী এ সময় স্পষ্ট করেন, নূর চৌধুরী কানাডায় নাগরিকত্বের মর্যাদা পাননি এবং তিনি কানাডার নাগরিক ছিলেন না।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব বলেন, ‘বৈঠকে দু’নেতা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন।রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে বাংলাদেশকে সমর্থন এবং সহায়তা অব্যাহত রাখায় কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালিয়েছে। ফলে তারা নিজের জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এরপর এই ইস্যুটিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য কানাডা যে ভূমিকা নিয়েছে, সেজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে কানাডার দ্য সিনেট, হাউস অব কমন্স এবং সংবাদমাধ্যম এই সংকট নিয়ে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে দারুণ ভূমিকা পালন করেছে।’এ সময় প্রধানমন্ত্রী কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে জানান, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে কক্সবাজার এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে তাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন লি পেটিট ফ্রটেন্সের ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মোহাম্মদ নজিবুর রহমান ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *