admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১২ ০১:১৮:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১২ ০১:১৮:২৫

নূর হোসেন মামুন, কাপ্তাই-
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় গত শুক্রবার থেকে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি হলে অাজ সন্ধ্যার পর থেকে বেড়েছে বৃষ্টির পরিমাণ। ভারি বৃষ্টিতে অাজ সোমবার সন্ধ্যার পর হতে কাপ্তাইয়ের বিভিন্নস্থানে বেড়েছে পাহাড় ধ্বসের সংখ্যা। তবে পাহাড় ধ্বসে হয়নি কোন ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি। এদিকে উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদে সহ বিভিন্ন স্থানে খোলা হয়েছে প্রায় ১৫টি অাশ্রয়কেন্দ্র। ঝুঁকিগ্রস্থরা পরিবার নিয়ে অাসতে শুরু করেছে অাশ্রয়কেন্দ্রে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কাপ্তাইয়ের বিভিন্নস্থানে গত বছরের ১৩ই জুনে পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানি হয়েছে ১৮জনের। ক্ষয়ক্ষতি ছাড়িয়েছে কোটির অাধিক। পাহাড় ধ্বসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ধ্বস নেমেছিল ব্যবসায়। এদিকে গত রবিবার রাতে ব্যাপক অাকারে বর্ষণ ও বজ্রপাতে পাহাড় ধ্বসে কাপ্তাইয়ের লকগেইট ও মিতিঙ্গাছড়ি এলাকায় পাহাড় ধ্বসে বিদ্ধস্ত হয়েছে কয়েকটি বাড়ি। অাজ সন্ধ্যার পর হতে বেড়েছে ভারী বর্ষণ। ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধ্বস হয়েছে কাপ্তাইয়ের লকগেইট, চন্দ্রঘোনার মিতিঙ্গাছড়ি, বারোঘোনিয়া গেইট ফার্ম এলাকা, সিনেমা হল এলাকায় পাহাড় ধ্বস হয়েছে। তবে নিরাপদ অাশ্রয়ে যাওয়া কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে গতকাল সোমবার থেকে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের জন্য সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কারিগর পাড়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়, সীতা পাহাড় বৌদ্ধ মন্দির, মুরালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ (পুরাতন), শিলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিৎমরম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুসলিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ সহ প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে। অাশ্রয়কেন্দ্রগুলো ঘুড়ে দেখা যায়, ঝুঁকিগ্রস্থরা তাঁদের পরিবার নিয়ে অাশ্রয়কেন্দ্রে অাসতে শুরু করেছে।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন জানান, অামরা এলার্ড রয়েছি। কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুত কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সকল সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে সকলকে দ্রুত অাশ্রয়কেন্দ্রে অাসতে অাজ অাবার মাইকিং করে বলা হয়েছে। সকলে খুব অান্তরিকভাবে কাজ করছে। অাশা করি সবাই এভাবে অান্তরিক থাকলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি অারও বলেন, অামি নিজে সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সাথে কথা এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছি। ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধ্বস হয়েছে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনার মিতিঙ্গাছড়ি, বারোঘোনিয়া গেইট ফার্ম এলাকা, সিনেমা হল এলাকায় পাহাড় ধ্বস হয়েছে বলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তবে নিরাপদ অাশ্রয়ে যাওয়া কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাইয়ের বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। অামি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সকলকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে অনুরোধ করছি। এই বিপদে সকল মহলকে এগিয়ে অাসতে অনুরোধ জানান তিনি।