চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

admin

অাজ ভয়াবহ ১৩ই জুন: কাপ্তাইয়ে এবছরও পাহাড় ধ্বসের অাতঙ্কে প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটছে হাজার পরিবারের

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৩ ০৩:০৬:৫৮ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১৩ ০৩:০৬:৫৮

  • নুর হোসেন মামুন, কাপ্তাই:

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় গত বছরের ১৩ই জুন ঘটেছিল সর্ববৃহৎ পাহাড় ধ্বসের ঘটনা। এই ঘটনায় কোমলমতী শিশুসহ প্রাণ হাড়ায় প্রায় ১৮জন ঝুঁকিতে বসবাস করা হতদরিদ্র। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল কোটির অধিক। পাহাড় ধ্বসে দীর্ঘদিন যাবত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল কাপ্তাই-চট্টগ্রাম ও বড়ইছড়ি-রাঙামাটি সড়ক। ঝুঁকিগ্রস্থরা মাসের পর মাস মানবেতন জীবন যাপন করেছিল অাশ্রয়কেন্দ্রে।

অারেকটি বছর ঘুড়ে অাজ অাবার সেই ভয়াবহ এক অন্ধকারের দিন এসেছে। কাপ্তাইয়ের ইতিহাসে পাহাড় ধ্বস ট্র্যাজেডির অাজ সেই ১৩ই জুন। এক ভয়ানক দিন। ইতিমধ্যে গত বছরের ১৩ই জুনের যেসব ঘটনা ঘটেছিল তার পুনরাবৃত্তির অালামত শুরু হয়ে গিয়েছে। রাত দিন না মেনেই যে কোন সময়ই ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস হয়েছে কাপ্তাইয়ের সব কয়টি ইউনিয়ন। অনেকগুলো বাড়ি হয়েছে বিদ্ধস্ত। জীবন বাঁচাতে প্রায় তিন শতাধিক ঝুঁকিগ্রস্থরা ছুঁটে এসেছেন অাশ্রয়কেন্দ্র। প্রশাসনের নির্দেশে অস্থায়ী ভাবে কাপ্তাই উপজেলায় খোলা হয়েছে মোট ১৫টি অাশ্রয়কেন্দ্র।

পাহাড় ধ্বসে বিলিন হওয়ার পথে কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়ক। ইতিমধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গিয়েছে কয়েকটি স্পট। সড়কের মাটা সড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধের পথে কয়েকটি স্পট। ওয়াগ্গার দেবতাছড়ি এলাকায় ১’শ পঞ্চাশ ফিট সড়ক তলার মাটি সড়ে গিয়েছে ভেঙ্গে। এছাড়াও যে কোন মুহুর্তে কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অালামত দেখা দিয়েছে।

এদিকে গতকাল দুপুরে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের ব্যাঙছড়ি ট্যাগের গাঁ ঘেষে এক বিশাল কৃষ্ণচুড়া গাছ মাটি থেকে উপরে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে প্রায় ২ঘন্টা যাবত। পরে বন বিভাগের সহায়তায় তা স্বাভাবিক হয়। এছাড়া প্রতিনিয়ত কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় থেকে মাটি নেমে সড়কে একাকার হয়ে যাওয়ায় দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। সড়ক ও জনপদ বিভাগকে প্রতিদিন মাটি সড়াতে দেখলেও সমাধান হচ্ছেনা মাটিতে সড়কে দূর্ভোগের অবস্থা। বিদ্যুৎ থাকছেনা ওয়াগ্গা সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। 

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রায় ঝুঁকিগ্রস্থ ৬’শ ৭৩টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূণভাবে বসবাস করা পরিবারগুলোকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্থান ফেলে অাশ্রয় শিবিরে চলে অাসতে মাইকিং করে এবং চেয়ারম্যান, মেম্বার দিয়ে বলা হয়েছে। এরা অনেকেই চলে এসেছে। তবে তাঁর সংখ্যা খুব নগন্য। অাশা করছি বাকীরা খুব দ্রুত চলে অাসবেন অার না অাসলে অামি তাদের পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি সহ সকল প্রশাসনের সমন্নয়ে তাঁদের নিয়ে অাসতে বাধ্য হবো।

সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, অামি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অামি রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সাথে এই বিষয়ে কথা বলেছি। অাশা করছি খুব দ্রুত অাবার সড়কের সংস্কার কাজ অারম্ভ হবে। 

কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, গত বছরের পাহাড় ধ্বস ছিল খুবই মারাত্মক। অামরা অার সেই মুহুর্তগুলো ফিরে পেতে চাইনা। অামরা অার কাউকে হাড়াতে চাইনা। প্রশাসনের সমস্ত সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটলে অাশাকরি ইনশা অাল্লাহ অামরা দূর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *