admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৪ ২৩:৩৩:৩০ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১৪ ২৩:৩৩:৩০

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ার মার্কেটগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে বিকিকিনি জমে উঠলেও শেষ মুহুর্তে পাঞ্জাবী ক্রয়ের দিকেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি পাঞ্জাবী তৈরীতে বিখ্যাত পৌরসদরের আল-জামেয়া মাদ্রাসার পাঞ্জাবীর দোকানগুলোতে ও ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এমনকি তারা ক্রেতাদের বাড়তি চাপ সামলাতে এখন এক প্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। বিশেষ করে বিগত ৫ দিনের বর্ষণে ক্রেতারা বিকিকিনিতে যেমন অস¯িÍতে ভুগেছে তেমনি বিক্রেতারা কাঙ্খিত লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে শংকায় পড়েছিল।
বতর্মানে তা কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছেন বলে জানান পটিয়া সিটি গাজী ফেব্রিক্স ও গাজী কসমেটিকস এর মালিক আমির হোসেন। তিনি বলেন, বর্ষায় ক্রেতারা তাদের পছন্দের পন্য ক্রয়ে বাধার মুখে পড়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টি কমে আসায় আবার মার্কেটমুখি হয়েছে। আমি আশাবাদী আমার এবার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হব। হারুন ফ্যাশনের মালিক হারুনুর রশিদ বলেন, ঈদ উৎসবে সবাই এক কাতারে এসে বন্ধন সুদৃঢ় করে। এখন চলছে শেষ মুহুর্তের বেচা কেনা। আমি মনে করি এসময়ে বৃষ্টি বিকি কিনিতে বাধা হয়ে দাড়াবে না।
ক্রেতারা যতই বৃষ্টি হোক ঈদ উৎসবের জন্য তাদের পছন্দের পন্য ক্রয় করবেই। আমরা সেভাবেই দোকান প্রস্তুত করেছি। সব ধরণের চাহিদা সম্মত পন্য আমাদের কাছে মজুদ আছে। তবে বর্তমানে পাঞ্চাবী ও টুপি ক্রয়েই ক্রেতারা বেশী ঝুঁকছেন।

জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্ররা বছরের প্রায় সময় পটিয়া আল জামেয়া মাদ্রাসার ১৪টি জামা তৈরীর কারখানায় পাঞ্জাবী তৈরি করে থাকেন। ঈদকে সামনে রেখে এখানে পাঞ্জাবীর চাহিদা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। এখানে বর্তমানে আল মিনার টেইলার্স, আল মাদানী টেইলার্স, আল আরব টেইলার্স, আল জামেয়া টেইলার্স, আল আমিন টেইলার্স, আল গাজী টেইলার্স, জমিরিয়া টেইলার্স, পাঞ্জাব টেইলার্স, এরাবিয়ান টেইলার্স, আল মদিনা টেইলার্স, আহমদিয়া টেইলার্স, ইসলামিয়া টেইলার্স, আল হারামাইন টেইলার্স ও আল মক্কা টেইলার্স নামের ১৪ টি পাঞ্জাবী বানানোর দোকান। প্রায় সব গুলো দোকানেই পুরোদমে চলছে পাঞ্জাবী তৈরীর কাজ।
আলাপকালে আল মিনার টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মোজাহেরুল ইসলাম মুরাদ জানান, এখানে তার মালিকানাধীন মিনার টেইলার্সই সবচেয়ে পুরোনো। তার দোকানে বছরের প্রায় সময় মাদ্রাসা ছাত্ররা পাঞ্জাবী বানিয়ে থাকেন। রমজানে কাজ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তিনি জানান, প্রতিটি সাধারণ পাঞ্জাবী বানাতে ৩শ’-৪শ’ টাকা। অন্যদিকে কারুকাজ করা পাঞ্জাবী কাজ ভেদে ৮শ’ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি নেয়া হয়ে থাকে। তিনি জানান, মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া অনেক বাংলাদেশী ছাত্ররাও তাঁর দোকান থেকে পাঞ্জাবী বানিয়ে নেন। তিনি বলেন, এখানকার ১৪ টি পাঞ্জাবী দোকানই রমজানে বেশি কাজ হয়ে থাকে। রমজান মাসে প্রতিটি দোকানে কমপক্ষে ৭শ’ থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত পাঞ্জাবী তৈরি করে থাকেন।
আল মাদানী টেইলার্সের মালিক সিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে লোকজন পাঞ্জাবী বানানোর জন্য পটিয়া আসেন। আল গাজী টেইলার্সের মালিক মো. মুবাশ্বির জানান, শবে বরাতের পর থেকে এখানে পাঞ্জাবীর অর্ডার নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় তারা অতিরিক্ত কারিগর রেখে পাঞ্জাবী তৈরীর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এত বেশি অর্ডার নিয়েছেন যে, শেষ পর্যন্ত তা ক্রেতা সাধারণকে বুঝিয়ে দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।
এক ক্রেতা নুরুল আবছার জানান, এখানকার পাঞ্জাবী সেলাইয়ের মান যেমন ভাল, তেমনি কারুকাজ গুলোও দেখার মত। তাই সব সময় তিনি আল-জামেয়া রোডে পাঞ্জাবী তৈরী করেন। ঈদের বাকী আর মাত্র ৪ দিন। এমতাবস্থায় সব ধরণের শপিং শেষে এখন ক্রেতারা পাঞ্জাবী ক্রয়ের দিকেই ঝুঁকছেন। পটিয়ায় বর্তমানে এ পাঞ্জাবী দোকানগুলো ছাড়াও অনেক ভ্রাম্যমান পাঞ্জাবীর দোকান বসেছে। সেখানে টুপি, রুমালসহ ঈদের নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই লাইন ধরে কিনছেন ক্রেতারা। পটিয়া দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী এমএ ইউসুফ বলেন, ক্রেতারা শেষ মুহুর্তে তাদের পছন্দের পন্য ও পাঞ্জাবী এবং টুপি ক্রয়ে বেশী ব্য¯Í হয়ে পড়েছে। সব মার্কেটে এখন ক্রেতার বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার চলছে। আমরা এবং প্রশাসন যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত রয়েছি। আমরা আশাবাদী পটিয়ায় ক্রেতারা কোন ধরণের বাধা বিঘ্নহীনভাবে বিকিকিনি করতে পারবে।