চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

admin

পটিয়ায় সম্ভাবনা থাকলেও উদ্যোগের অভাবে গড়ে উঠছে না বিনোদন কেন্দ্র

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২১ ০১:৫৮:০৬ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২১ ০১:৫৮:০৬

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :

দক্ষিণ  চট্টগ্রামের সাবেক মহকুমা সদর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত জেলা পটিয়া সকল অবকাঠামোগত দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও বিগত ৪৭ বছরেও গড়ে উঠেনি কোন বিনোদন কেন্দ্র। ফলে বিনোদন পিয়াসী মানুষ গুলো বিভিন্ন খুশির দিন বিশেষ করে ঈদ ও পূজা পার্বণ এবং অবসরে কাছাকাছি কোন পার্ক, লেক কিংবা উদ্যানে গিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে শরীর মন চাঙ্গা করার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে তাদেরকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পাহাড়ীকন্যা বান্দরবান অথবা পারকী সমুদ্র সৈকত কিংবা চকরিয়া সাফারী পার্ক, অথবা বাশখাঁলী ইকোপার্ক, বা চট্টগ্রাম নগরীর ফয়েজ লেকে ছুটতে হয়।

জানা যায়, পটিয়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাণ কেন্দ্র। রেল সড়ক ও নৌ-যোগাযোগের প্রধানতম কেন্দ্র এই পটিয়া। পটিয়ায় রয়েছে একটি ১ম শ্রেণীর পৌরসভা, ১৯ টি ইউনিয়ন, এর রয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ জনসাধারণ। এ জনসাধারণের জন্য স্বাধীনতার বহু বছর পূর্ব থেকে ডাকবাংলোয় একটি শিশু পার্ক গড়ে উঠলেও নানা সীমাবদ্ধতায় তার কোন প্রসার ঘটেনি। ফলে যেভাবে এ শিশু পার্ক শুরু হয়েছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে এর সুযোগ সুবিধা। ফলে শিশুদের বিনোদনের চাহিদা পূরনেও এটি কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে বিনোদন পিয়াসীরা অভিযোগ করে এর সম্প্রসারণ ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য তারা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পটিয়ার শ্রীমতি খালের উজানে এবং হাইদগাঁও ও কেলিশহর এবং কচুয়াই-খরনার বিশাল এলাকা জুড়ে প্রায় ২৬ হাজার একর বন ভূমি ও অসংখ্য লেক রয়েছে। এছাড়াও কচুয়াই ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলে রয়েছে পটিয়া চা-বাগান। এক সময় এ চা-বাগানকে ঘিরে এখানে চা শিল্পের বিকাশের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল অদৃশ্য কারণে তা মুখ থুবড়ে পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে এর সাথে জড়িতরা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্তে প্রতিনিধি দল চা-বাগান পরিদর্শণ করেন। তারা পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে এ বাগানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবহিত হয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিলেও বর্তমানে তা আলোর মুখ না দেখায় আদৌ এ চা-বাগান শুরু করা নিয়ে শংকা বিরাজ করছে।

তবে পটিয়ার পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ীয়া এলাকায় একটি ইকো পার্ক করার জন্য বন বিভাগের মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ে একটি প্রস্তাবনা  বিগত মহাজোট সরকারের আমলে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তাও আলোর মুখ দেখে নি। পটিয়ার এক বিনোদন পিয়াসী আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র রবিউল হোসেন বলেন, আমরা স্কুলে এসে আবার ক্লাস করে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু কোন বিনোদনের সুযোগ পায় না। পটিয়া শশাংকমালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শেণীর ছাত্রী সাদিয়া বিনতে হাকিম পুষ্পিতা বলেন, আমরা বিনোদনের জন্য পটিয়ায় শিশু পার্ক চাই। পটিয়া সরকারী কলেজের ছাত্র মহিউদ্দীন বলেন, পটিয়ার অনেক নাম-ডাক রয়েছে। সরকারী বেসরকারী অনেক অনেক অফিস রয়েছে। কিন্তু কোন বিনোদনের স্পটকে ডেভলাপ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না এটি দু:খজনক।

পটিয়ার মুক্তিযোদ্ধা যুগল সরকার বলেন, পটিয়ার শিকলবাহা খালে বøক বসালে এটি পর্যটন স্পট হবে। মানুষ বিনোদনের সুযোগ পাবে। এছাড়াও শ্রীমতি খালের উজানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগালে সেখানেও পর্যটন স্পট হবে। পটিয়া ক্যাবের কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম সাজ্জাদ কবির আরজু বলেন, পটিয়ার কেলিশহর, কচুয়াই ও খরনার পাহাড়ী এলাকা জুড়ে সরকারীভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক স্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু উদ্যোগের অভাবে পটিয়ায় তা বা¯Íবায়ন হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ¦ মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমাদের সরকারের বিগত সময়ে আমি জেলা বন ও পরিবেশ কমিটির সভায় পটিয়ায় ইকো পার্ক করার বিষয়ে প্রস্তাব  রেখে ছিলাম। আমি আশাবাদী পটিয়ায় যোগাযোগ সহ সব ধরনের সুবিধা বিদ্যমান থাকায় এ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাসেলুল কাদের বলেন, পটিয়ার গৌরবদীপ্ত ইতিহাস রয়েছে। এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও স্থাপনাও আছে। আমরা চেষ্ঠা করব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুলো বাছাই করে কোন পর্যটন স্পট গড়া যায় কিনা। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা পটিয়া পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা জায়গা খুঁজছি চিত্ত বিনোদনের জন্য পৌর এলাকায় একটি শিশু পার্ক করার। এব্যাপারে আমরা আশাবাদী। যদি যায়গা পাওয়া যায় তাহলে যত দ্রæত সম্ভব পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর সাথে পরামর্শ পূর্বক আমরা পৌর এলাকায় একটি শিশু পার্ক করার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *