admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২১ ০১:৩২:১০ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২১ ০১:৩২:১০

নূর হোসেন মামুন, কাপ্তাই:
প্রযুক্তি প্রতারনার শিকার হয়েছেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন। তার ব্যবহৃত সরকারি টেলিটক নাম্বার ক্লোনিং করে নানাজনের কাছে বিভিন্ন অন্যায় আবদারসহ টাকা চেয়ে বসছে একটি চক্র। বুধবার দুপুরে থেকে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি সহ ইউপি চেয়ারম্যানদের নাম্বারে কল করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টাকা দাবি করা হয়।
এদিকে ওয়াগ্গা ইউপি চেয়ারম্যান চিরঞ্জিত তনচংগ্যা ৫০ হাজার, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. অালাউদ্দিন ১০ হাজার সহ অারও কয়েকজন বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাহিত টাকা পাঠানোর প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেন।
এরই মধ্যে কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী অালাউদ্দিনের নিকট ১০ হাজার টাকা হাওলাত চাওয়ায় বিষয়টি তার কাছে রহস্যজনক বিবেচিত হয়। তিনি টাকা পাঠানোর কথা জানিয়ে বিকাশ নাম্বার চেয়ে বসেন।
এই সময়ের মধ্যে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিনের ব্যক্তিগত নাম্বারে কল করে টাকা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর থেকেই প্রতারনার বিষয়টি বের হয়ে আসে।
সাথে সাথেই রুহুল অামিন নামক নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে বিষয়টি উল্লেখ করে একটি ষ্ট্যোটাস এর মাধ্যমে সকলকে এই ধরনের প্রতারনায় বিশ্বাস নাকরে সজাগ থাকার আহবান জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিজস্ব ফেইসবুক আইডি থেকে এক স্ট্যাটাসে জানানো হয়, ‘আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারটি ক্লোন হয়েছে। ফোন করে বিকাশ করে টাকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।
প্রতারক কর্তৃক প্রদত্ত বিকাশ নাম্বার ০১৭৯১১১৮২২৬।’
এই বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন জানিয়েছেন, অনেকেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে আমার কাছে ফোন করছে। বিষয়টি বেশ বিব্রতকর। এই ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেবিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. অালাউদ্দিন অাজ বিকেলে কাপ্তাই থানায় এই বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়ে একটি জিডি এন্ট্রি করেন।
এদিকে অাজ দুপুর ১২টার সময় একইভাবে ক্লোন করা হয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সরকারি নাম্বর। তার নাম্বার ক্লোন করে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন ইউএনও এর কাছে ১০হাজার টাকা করে চাওয়া হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিন রাঙামাটি জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে অাসল ঘটনা বের হয়ে অাসে। পরে তিনি তার অফিসিয়াল ফেইজবুক একাউন্ট থেকে তার নাম্বার ক্লোন করার বিষয়টি সকলকে অবগত করে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।
সংশ্লিষ্ট্যদের মতে, দূর্গমতার কারনে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকার পাহাড়ি এই অঞ্চলে সাইবার অপরাধ খুব সহজেই করা যায়, এমন মানসিকতা থেকেই একটি চক্র মোবাইল অপারেটরদের যোগসাজশে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই ধরনের প্রযুক্তি প্রতারনামূলক কর্মকান্ডগুলো করে যাচ্ছে। স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে যুগোপযোগি আধুনিক সরঞ্জামের সংযোজন করা গেলে এই ধরনের সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে অন্যথায় এই ধরনের অপরাধী চক্রের হাত থেকে অত্রাঞ্চলের সাধারণ মানুষজনও রক্ষা পাবেনা।