চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

admin

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণপটিয়ার এমপি সামশুল হক উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও সম্পাদক আজ যাচ্ছেন গণভবনে

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২২ ২০:৫৪:৩১ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২২ ২০:৫৪:৩১

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ : 

প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আজ শনিবার পটিয়া থেকে দু’দুবার নির্বাচিত সাংসদ আলহাজ সামশুল হক চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম সামশুজ্জমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ গণ ভবনে যাচ্ছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিলগ্নে সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত সাংসদ এবং জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকদের কাছ থেকে দলের অবস্থান সম্পর্কে জানা তথা আসন্ন নির্বাচনের নীতি নির্ধারণ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার লক্ষ্যে আ’লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণ ভবনে শনিবার মত বিনিময় করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ দিন মত বিনিময় সভায় অংশ নিতে গণ ভবনে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসনের সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী সহ আ’লীগ নেতৃবৃন্দ।

 

জানা যায়, চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসনে ১০ম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মহাসচিব সামশুল হক চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পূর্বে বংলাদেশ আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে খ্যাত এ আসনটি ৭৫’র এর পনের আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যার পরে একবারের জন্য ও বিজয়ী হতে পারেনি। সে সময়ে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের শিল্প ও প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী পটিয়ার এমপি ছিলেন।

 

পরে স্কপ নেতা চৌধুরী হারুনুর রশীদ ১৫ দল থেকে এমপি হলেও বার বার দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এক বারের জন্যও নৌকা নিয়ে বিজয়ী হতে পারেনি। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এস.এম ইউসুফ বিএনপি প্রার্থী শাহনেওয়াজ চৌধুরী মন্টুর কাছে হারেন। আর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ হারেন বিএনপি প্রার্থী গাজী শাহজাহান জুয়েলের কাছে। এ নিয়ে যখন আওয়ামী শিবিরে দীর্ঘ হতাশা জগদ্দল পাথরের ন্যায় জেঁকে বসেছিল ঠিক তখনই আশার আলো হিসেবে আভির্ভূত হয়েছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাসচিব সামশুল হক চৌধুরী।

তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও মেধা মননের সমন্বয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করে প্রথম বারেই বিএনপি প্রার্থীকে প্রায় ৩০ হাজার ভোটে পরাজিত করার মাধ্যমে বাজিমাত করেন। আর ভোটে জয়ী হয়েই তিনি দলমতের উর্দ্ধে উঠে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে সব মানুষের মন জয় করে নেন। পরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ও তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয় বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন। এবারও বিজয়ী হয়ে তিনি পেছনে ফিরে তাকান নি। পটিয়ার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে তার উন্নয়ন কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দেন। সাধারণ মানুষ থেকে উপাধী লাভ করেন উন্নয়নের বাঁশি ওয়ালা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পূর্বে সুদীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় পটিয়ায় উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি বলেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দাবি করে থাকেন।

যে কারণে পটিয়ার পুঞ্জিভুত সমস্যা দুই মেয়াদে সমাধান করতে বর্তমান সাংসদ আলহাজ সামশুল হক চৌধুরী নিরলস প্রচেষ্টা চালান। এ উন্নয়নে সাংসদের উন্নয়ন সমন্বয়কারী দেবব্রত দাশ জানান, পটিয়ায় বিগত দুই মেয়াদে সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি উন্নয়ন হয়েছে। তিনি জানান, পটিয়ায় এখনো বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও আরো অনেক গুলো নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে পটিয়া হবে মডেল জনপদ। তিনি পটিয়াকে মডেল করতে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে সামশুল হক চৌধুরীর পুনরায় সাংসদ হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, তৃণ মূলের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গণ ভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মত বিনিময়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আমি সত্যিই গর্বিত। আমি আমার এ অর্জনের জন্য দলের সকল নেতাকর্মী ও পটিয়াবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দিক নির্দেশনা দেবেন। যা তৃণমূলে বাস্তবায়িত হলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পটিয়া থেকে নৌকাকে বিজয়ী করে বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম সামশুজ্জামান চৌধুরীর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, শনিবার গণ ভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছেন। আমরা মাননীয় সাংসদ আলহাজ সামশুল হক চৌধুরীসহ ঐ দিন গণ ভবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে দিক নির্দেশনা দেবেন আমরা সেই মোতাবেক কাজ করবো। আমরা বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আস্থাভাজন মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পটিয়ায় ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করব। যার ধারাবাহিকতা রক্ষা তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাবেক মহকুমা সদরের এ আসনটির গুরুত্ব ও জাতির পিতা কর্তৃক পটিয়াকে সব সময় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এখানে যে বিষয়গুলো করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেবো। যাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আমরা আবারো নৌকাকে বিজয়ী করে এ আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়ে সরকার গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারি। এছাড়াও পটিয়ার প্রতি মাননীয় প্রধানন্ত্রীর বিশেষ সুদৃষ্টি ও মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর প্রতি বিশেষ আস্থা থাকায় তিনি ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর ও আশে পাশের অন্যান্য এলাকাকে বাদ দিয়ে পটিয়াকে আস্থার আশ্রয়স্থল হিসেবে মনে করে এখানেই চট্টগ্রামের বিভাগীয় মহা সমাবেশের স্থান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। এর ফল স্বরূপ পটিয়ার জনগণ দল মত নির্বিশেষে প্রধামন্ত্রীর জনসভাকে সফল করে পটিয়ার প্রতি মাননীয় প্রধামন্ত্রীর যে আস্থা রয়েছে তাকে আরো সুদৃঢ় করেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে  পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকল সাংসদ ও জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকদের সাথে গণ ভবনে আগামী শনিবার মত বিনিময় করবেন। এতে তিনি আসন্ন নির্বাচন সহ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন। আমি আশাবাদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আগামী দিনে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এ দিন দীপ্ত শপথ নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *