admin
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৫ ০১:২৪:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৫ ০১:২৪:২৫

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত ২ সপ্তাহ পূর্বে অবিরাম বর্ষণে শ্রীমতির উপরিভাগের পাহাড়ি ঢল নেমে ভাটিখাইন, উত্তর ছনহরা ও কিরিঞ্জা সড়কের দুইটি স্পটে কয়েক হাজার ফুট সড়ক (বেঁড়িবাঁধ) মারাত্মক ভাঙ্গনের ফলে তিন ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এ ভাঙ্গনে এত বেশী ক্ষতি হয়েছে যে, ইউপি পরিষদের পক্ষ থেক সংস্কার করার কোন বরাদ্দ না থাকায় কবে নাগাদ বিছিন্ন যোগাযোগ পুন:স্থাপিত হবে তা কেউ বলতে পারছে না। ফলে এ এলাকায় বসবাসরত লক্ষধিক মানুষকে নানা শংকায় দিন কাটাতে হচ্ছে। তারা বর্তমানে যেমন নিজ প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারছে না তেমনি পুনরায় বর্ষণ শুরু হলে তার ঢলের পানিতে ঘর-বাড়ী ভেসে যাওয়ার শংকায় দিনাতিপাত করছে। তারা অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন সড়ক সংস্কারে পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী ও পানি সম্পদ মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে গত দুই সপ্তাহ পূর্বে একটি লঘুচাপের ফলে অবিরাম বর্ষণে পটিয়ার ছনহরার উত্তরাঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়ক শ্রীমতির বেঁড়িবাঁধ। এ বেঁড়িবাঁধের উপর দিয়ে পৌরসভা, ভাটিখাইন, উত্তর ছনহরা ও আশিয়া ইউনিয়নের মানুষ সহজে চলাচল করে। বর্তমানে এ সড়কের কয়েক হাজার ফুট সড়ক শ্রীমতির ঢলে ভাঙ্গন সৃষ্টি হলে পটিয়ার পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ীয়া ঢলের পানি ছনহরায় ঢুকে অসংখ্য পুকুরের মাছ, ফসলী জমির রবিশষ্য এবং অনেকগুলো বসত বাড়ী পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয় বলে ছনহরা ইউপি চেয়ারম্যান এড. আবদুর রশিদ দৌলতী জানান। তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষা শুরু হলেই আমার ইউনিয়নের উত্তর ছনহরা এলাকার মানুষগুলোকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। তারা শংকায় থাকে কখন শ্রীমতির ঢলের পানি বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে বাড়ি-ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্ষা শুরুর সাথে সাথেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে ইউনিয়নের প্রায় কয়েক কোটি টাকার ÿতি সাধিত হয়। আমরা বার বার এ সড়ক ও বাঁধ রক্ষার বøক বসানোর পাশাপাশি রির্টানিং ওয়াল নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
আমরা অবিলম্বে এলাকার মানুষগুলোর নিরাপত্তা বিধানের জন্য পটিয়ার সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলুল কাদের জানান, শ্রীমতির ভাঙ্গন নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে অবহিত করেছি। তারা সংশিøষ্ট প্রকৌশলীদেরকে ভাঙ্গন এলাকায় পাঠিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরী করেছে। যেহেতু ঈদের পূর্বেই এ ভাঙ্গন সেহেতু বন্ধের কারণে এতদিন এ বিষয়ে তেমন কোন কিছু করা যায়নি। গতকাল পটিয়া উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ সংক্রান্তে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। যাতে দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘব করা যায় সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আমরা আশাবাদী যত দ্রুত সম্ভব তারা জনস্বার্থে এ ভাঙ্গন এলাকায় জনগণের নিরাপত্ত বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এব্যাপারে পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইতিপূর্বেও এ ভাঙ্গন রোধ করতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে যাতে ভাঙ্গন এলাকা সংস্কারপূর্বক জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।