Faruque Khan
Executive Editor
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০১ ১৮:৫২:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০১ ১৮:৫৩:৪৮
ফারুক খান তুহিন, বীরকন্ঠ :
বান্দরবানে মৌসুমী চাষাবাদ হিসেবে শষা চাষের ব্যাপকতা লক্ষণীয় । এরই মধ্যে আগাম ফসল তোলেছে কৃষকরা । বান্দরবানের শষা সয়লাব হচ্ছে সারাদেশে । বান্দরবান থেকে ট্রাকে ট্রাকে শষা দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করছে ব্যাপারীরা ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বান্দরবানের কৃষকরা বেঁলে ও প্রস্থর মাটিতে সেঁচের অভাবে সারা বছর চাষ করতে না পারলেও, বর্ষা মৌসুমে শষা চাষ করে পুরো বছরের ক্ষতিগুলো পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে থাকে । স্বল্প সময়ে কঠোর পরিশ্রম করে অধিক ফলনের আশায় পুরোদমে শষা চাষে নেমেছিল স্থানীয় কৃষকরা । এরই মধ্যে ফসল তোলতে পেরে আনন্দিত তারা ।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সদর উপজেলার সুয়ালক, মাঝেরপাড়া, লম্বারস্তা, রেইছা, গোয়ালিয়া খোলা, টংকাবতি, কুহালং, ক্যামলং, তারাছা পৌরসভার বালাঘাটা, কালাঘাটা, লেমুঝিড়ি প্রভৃতি এলাকায় বিশাল বিশাল এলাকা জুড়ে শষা চাষ করা হয়েছে । দিবারাত্রী মাঠে থেকে ব্যস্থ সময় কাটাচ্ছে চাষী পরিবার ।
নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় চাষাবাদ শুরুর দুই আড়াই মাসেই ফুলের পরাগায়ন হয়। ফলনও হয়েছে ভালো । চাহিদা ধরে বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকরা ।

মাঝেরপাড়ার কৃষক মো: আলম জানিয়েছেন, প্রতি মন শষা বিক্রি হচ্ছে ৬’শ থেকে ১ হাজার টাকায় । গড়ে ১৫ থেকে ২৪ টাকা কেজি দাম । তবে পরবর্তীতে দাম কমে যেতে পারে ।
ভিন্ন কথা বলেছেন একই এলাকার কৃষক বাথুচিং মার্মা । তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারনে ফসল নষ্ট হয়েছে । তাই তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন ।
লম্বারাস্তার কৃষক কালু বলেন, শষার মাচাঙ তৈরীর জন্য এখন পর্যাপ্ত বাঁশ, গাছ পাওয়া যায়না। তাই অনেক টাকা মূল্যের নাইলনের জাল দিয়ে মাচাঙ দিয়েছি। এর বাহিরে শ্রমিক, কিটনাশক ও সার বাবদ ব্যয়সহ প্রতিকানি জমিতে ৬০ হাজার টাকার উপরে খরচ করতে হয়েছে । এ টাকা ফিরে আসবে কিনা সন্দেহ রয়েছে ।
অনেক কৃষক অভিযোগের সুরে এ প্রতিবেদককে জানান, বান্দরবানের কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা খোঁজ নেয়না প্রান্তিক কৃষকদের । ফলে সঠিক দিক-নির্দেশনা ও অর্থাভাবে পড়তে হয় তাদের । আবার অনেক কৃষক ব্যাপারীদের কাছ থেকে অগ্রীম দাদন নিয়ে চাষাবাদ করায় মুনাফাও চোখে দেখছেনা ।