চট্টগ্রাম, , বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

admin

রাইখালীর ভাল্লুকিয়া বিদ্যালয়ে ২যুগ পর অালো জ্বালিয়েছেন ইউএনও রুহুল অামিন

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৭ ১২:১৯:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৭ ১২:১৯:৫২

নূর হোসেন মামুন, কাপ্তাই:

কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের দূর্গম ভাল্লুকিয়া এলাকায় ও পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করার প্রয়াসে ১৯৯৪ সালে মৃত গোপাল চন্দ্র তনচংগ্যার ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ভাল্লুকিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দূর্গম এলাকায় অবস্থিত হলেও বিগত দিনে জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলায় সুনাম কুড়িয়েছে ব্যাপক। তবে ২যুগ ধরে উক্ত বিদ্যালয়টিতে পৌঁছায়নি সামান্যতমও বৈদ্যুতিক সংযোগ। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন নানান সমস্যার বেড়াজালে সুষ্ঠভাবে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় হতাসা ছিল অভিবাবক মহলের।

 

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিনের নিকট বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে অবশেষে দুই যুগ পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সোলার প্যানেল স্থাপনের মধ্যদিয়ে অালোকিত করেছেন বিদ্যালয়টির প্রত্যেকটি শ্রেণীকক্ষ। বাতির অালোয় শিক্ষার্থীরা এখন ব্লাক বোর্ডের লিখা দেখছে স্পষ্ট। তাঁদের মাথার উপর ঘুড়ছে ফ্যান। সব মিলিয়ে দুই যুগের অপূর্ণতা অাজ কিছুটা যেন লাঘব হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ভাল্লুকিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি।দূর্গম পাহাড়ের প্রতিটি পরিবারের জীবন জিবিকার একমাত্র উৎস কৃষি কাজ। অার হতদরিদ্র গরীব ও অসহায় কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পথ পারি দিয়ে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাও অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে। দূর্গম পাহাড়ে শিক্ষার অালো প্রতিটি ঘড়ে ঘড়ে পৌঁছে দিতে এই বিদ্যালয়টি যেনো এক অালাদিনের দৌত্তের চেরাগ।

তবে উক্ত বিদ্যালয়টি নন-এমপিও ভুক্ত এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বর্তমানে সেকায়েপ প্রকল্পের অাওতাধীন পরিচালিত হচ্ছে কোন রকম তালি জোড়া দিয়ে। যদিও দূর্গম পাহাড়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান, কিন্তু ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হারে কাপ্তাই উপজেলার মধ্যে ২য় স্থান অধিকার করা সহ প্রতিবছরই জেএসসি পাশের হার ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। তবে বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো হওয়ার পিছনে যে ৬জন শিক্ষক ও সহায়কগণ নিরলশ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সরকারিভাবে তাদের কোন বেতন ভাতা প্রদান না করায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

 

এদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সাথে অালাপ করে জানা যায়, দুই যুগ পর বিদ্যালয়টিতে অালো জ্বলেছে তাই শিক্ষার্থী সহ বিদ্যালয়টির প্রত্যেক মানুষ প্রচন্ড অানন্দিত। তারা প্রত্যেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল অামিনের নিকট ধন্যবাদ জ্ঞাপন সহ তার মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, সুন্দর ও শিক্ষিত সমাজ বিনির্মানে একজন শিক্ষকের চেয়ে অান্তরিক ভূমিকা অার কোন মহল রাখতে পারেনা। একজন শিক্ষককে মানুষ সৃষ্টির কারিগর বলা হয়ে থাকে। কিন্তু অাজ বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভাল্লুকিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষকরা যদি এত বেশি অান্তরিক না হতো তাহলে অনেক অাগেই পাহাড় থেকে বড় বড় সমাজ নির্মাতা সৃষ্টি হওয়া বন্ধ হয়ে যেতো। তাই যত দ্রুত সম্ভব, শিক্ষকদের বেতন ভাতাদি প্রদানের বিষয়ে জরুরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান তারা।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে অামাদের কাপ্তাই প্রতিনিধি নূর হোসেন মামুনকে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির অাহম্মেদ চৌধুরী অামাকে ভাল্লুকিয়া বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ২৪ বছর যাবত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলে অামি তাৎক্ষনিকভাবে বিদ্যালয়টিতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করি। অামি শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে খুবই অান্তরিক। শিক্ষকদের যাবতীয় সমস্যা অামি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সমাধান করতে অবশ্যই চেষ্টা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *