চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

admin

পটিয়ার জিরি মহিরা সংযোগ সড়ক সেতুর কাজ নিয়ে গড়িমসি : জন দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১০ ২৩:২৫:৪৬ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১০ ২৩:২৫:৪৬

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :

পটিয়ার জিরি মহিরা সংযোগ সড়ক সেতুর কাজ শুরু করেও দীর্ঘদিন যাবৎ ঠিকাদার কাজ বন্ধ রাখায় জন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এতে প্রায় দশ গ্রামের মানুষকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে গন্তব্যে যেতে গিয়ে সময় এবং অতিরিক্ত টাকা দুই গুনতে হচ্ছে। তারা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া সেতুর কাজ শুরু করে জনভোগান্তি লাঘব করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে আশা প্রকাশ করেছেন কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ শেষে চালু হলে ১০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবে।

জানা যায়, পটিয়ার জিরির মহিরার এশিয়া বিখ্যাত মহিরা ক্ষেত্রপাল মন্দির সংলগ্ন খালের উপর একটি সেতু পটিয়া এলজিইডি কর্তৃক বিগত অর্থ বছরে টেন্ডার আহবান করে। সর্বনিম্ন দরদাতা  ঠিকাদার হিসেবে মেসার্স শামীম এন্ড ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রায় ১ কোটি টাকার উপরে ব্যয় সাপেক্ষে এ সেতু  নির্মাণে বিগত অর্থ বছরে ঠিকাদার কাজ ও শুরু করেন। এ সময় তারা খালে পিলার জমানোর জন্য পাইলিং করলে ও মাঝপথে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয় বলে এলাকার লোকজন ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এতে তারা বলেন, বর্তমানে এ সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় জিরি, মহিরা, মহিরাহি খাইন, সাইদাইর, মহিরা পেরপেরাসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফলে এ এলাকার মানুষগুলোকে যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে যেতে বর্তমানে কয়েক কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে তাদের সময় যেমন অপচয় হচ্ছে তেমনি অতিরিক্ত অর্থ ও খরচ হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট জোর দাবি জানান। মহিরা শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রম ও বাসন্তী কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাবেক যুবলীগ নেতা সুমন চৌধুরী বলেন, মহিরা ক্ষেত্রপাল মন্দিরটি সনাতনীদের জন্য একটি এশিয়া বিখ্যাত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। যেখানে ধর্ম প্রাণ মানুষেরা সব সময় নানা মন বসনা পূরণে সমবেত হয়। এছাড়াও উল্লেখিত সেতু দিয়ে প্রায় দশ গ্রামের মানুষ তাদের গন্তব্যে যাতায়াত করে।  বর্তমানে এ সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক মানুষকে নানান দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যা দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয় অধিবাসী শেখর সরকার বলেন, এ সড়ক ও সেতু দিয়ে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চাকুরিজীবীরাও চলাচল করে। ব্যাবসায়ী নির্মল চৌধুরী বলেন,  আমরা সেতু না থাকায় ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারছি না। এলাকার মানুষের চাহিদা মত পন্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। পটিয়া উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী শংকর নন্দী বলেন, অতিরিক্ত পানির কারণে কাজ করা যাচ্ছে না বলে ঠিকাদার আমাদের জানিয়েছেন। তবে আমরা আশা করছি পানি কমলেই ঠিকাদার পুনরায় কাজ শুরু করবেন। পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, কার্যাদেশের পরেই সেতুটির কাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শুরু করেছিল। বর্তমানে প্রবল বর্ষণের কারণে ও ঈদে শ্রমিকরা ছুটিতে যাওয়ায় এখনো কাজ শুরু হয়নি। আমরা ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য তাগাদা দিয়েছি। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *