চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

admin

চট্টগ্রামের পোর্ট কানেক্টিং রোড, সড়ক তো নয় যেন জলাধার!

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২২ ২১:০৭:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২২ ২১:০৭:০৭

আখতার হোসাইন:

দেশের অর্থনীতির প্রাণ বন্দরের প্রধান সড়ক হচ্ছে পোর্ট কানেক্টিং রোড। বিশ্বরেড থেকে অলংকার পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় কিলোমিটার সড়কের করুন দশা। ছোট বড় গর্ত, ক্ষত-বিক্ষত সড়কটি চলাচলের অনপযুক্ত হয়ে পড়লেও দেখার যেন কেউ নেই। বন্দর, ইপিজেড, কাস্টমসসহ সরকারী-আধাসরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবি মানুষের একমাত্র চলাচলের এই সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে অবহেলা-অযত্নে মৃত্যু কূপে পরিণত হয়েছে।

 

সরেজমিনে পোর্ট কানেক্টিং সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সাগরিকা থেকে শুরু হয় ভাঙা সড়কের বিড়ম্বনা। সাগরিকা থেকে কলকা সিএনজি, ওয়াপদা গেইটের আগে থেকে এসি মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু এখানেই শেষ হয় না পোর্ট কানেক্টিং রোড। বড়পুলের পর থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত চলাচল উপযোগী সড়ক পাওয়া যায়নি। পুরো সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ধীরগতিতে চলাচল করে যানবাহন। গাড়ির চাপ বেশি থাকায় যানজট লেগেই থাকে।

 

এক লরি চালক বলেন‘ মাল ডেলিভারির কাজে বিকল্প সড়ক না থাকায় এ রাস্ত দিয়ে যেতে হয়। রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্ত গুলোতে গাড়ি পড়ে যাবার ভয় থাকে। কারণ লোড গাড়ি যদি গর্তে পড়ে তাহলে গাড়ি উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কাদার উপর গাড়ি চালাতে হয়। বৃষ্টি না থাকলে ধুলোবালির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এ রাস্তাটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কষ্টের শেষ থাকবে না।’

 

ইষ্ট কলোনীর বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এ রাস্তাটি পারতপক্ষে ব্যবহার করতে চাই না। ভেতরের রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। নতুবা মুরিং রোড দিয়ে আগ্রাবাদ ঘুরে তারপর আমাদের গন্তব্যে যেতে হয়।’

 

 

সম্পূর্ণভাবে গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে কাস্টমসের এক কর্মকতা। তিনি বলেন এরপরেও বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় রাস্তাটি সবাইকে ব্যবহার করতে হয়। রাস্তাটির দু’পাশেই ছোট-বড় অনেক গর্ত। বৃষ্টি হলে পুরো সড়ক পানিতে ডুবে যায়। তখন গাড়ি চলাচলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এরপরেও এক লাইনের সরু একটি অংশ দিয়ে দু’পাশের গাড়ি চলাচল করে। রাস্তাটির অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় কেউ চাইলেও গাড়িতে না উঠে হেঁটে চলাচল করতে পারে না।’

 

তিনি রাতে বড় যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাতে সাধারণত ট্রাক, লরি ও কার্গো চলাচল বেড়ে যায়। গাড়িগুলো অনেক জোরে চলাচল করে। ফলে ঝুঁকির মাত্রা তীব্র হয়ে পড়ে। এছাড়াও জমে থাকা পানি গাড়ি চলাচলের কারণে সিএনজি বা রিকশার যাত্রীদের পুরোপুরি ভিজিয়ে দেয়।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এ সড়কটি টেকসই সংস্কারের জন্য জাইকা কাজ করছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানের জন্য ওখানে কাজ চলছে। এ কাজগুলো পদ্ধতিগত কারণে সময় লাগছে। রাস্তার কাজ প্রতি ধাপে ধাপে ল্যাব টেস্ট করে, রিপোর্ট দেখে দেখে কাজ করছে। জাইকার নিজস্ব ড্রইং ও ডিজাইনে কাজটি যথাযথভাবে করা হচ্ছে কিনা দেখতে তাদের একটি মনিটরিং টিম আছে। এছাড়াও ঢাকা থেকে আরেকটি মনিটরিং টিম নিয়মিত কাজটি পর্যবেক্ষণ করতে আসেন। এ কাজটি ২০১৯ সালের মে মাসে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *