চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

admin

কোমর পানিতে প্লাবিত বন্দরনগরী

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৪ ১৯:০১:২৩ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৪ ১৯:০১:২৩

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের এলাকার বেশিরভাগ সড়ক, অলিগলি কোমর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নিচু এলার বসতিতেও পানি ঢুকে পড়েছে। টানা বৃষ্টির মধ্যে ভোর ৪ টা ৪১ মিনিটে সাগরে জোয়ার সৃষ্টি হয়। এরপর ভোর থেকেই নগরীর নিচু এলাকার মূল সড়ক, অলিগলি ডুবতে শুরু করে। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে যাওয়ায় নগরের সড়কগুলোতে গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কমে গেছে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশাসহ গণপরিবহনের সংখ্যাও।সোমবার (২৩ জুলাই) গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত চলছে। এই বৃষ্টিকে ভারি বর্ষণ বলছে আবহাওয়া অফিস।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ডিউটি অ্যাসিস্ট্যান্ট মো.ওবায়দুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ৯০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, সিডিএ আবাসিক, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়সহ নিচু এলাকায় জমেছে হাঁটুপানি, কোথাও বা কোমর পানি। পাহাড় ক্ষয়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে নামছে প্রচুর বালু। ভরাট হচ্ছে নালা-খাল, পানি উঠে যাচ্ছে সড়কে।

জলমগ্ন শহরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যন্ত্রচালিত ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাস, প্রাইভেট কারসহ বড় যানবাহন চলাচলেও বেগ পেতে হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন সড়কে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

কাজীর দেউড়ি মোড়ে কথা হয় গৃহিণী সুলতানা কামালের সঙ্গে। তিনি বলেন, বৃষ্টির তীব্রতা এত বেশি যে আমার ছাতা, বাচ্চার রেইন কোটও বৃষ্টিকে আটকাতে পারল না। স্কুলে এসে দেখলাম শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।

নগরীর মুরাদপুর, ‍দুই নম্বর গেইট এলাকা ভোর থেকে ঠাঁই জলমগ্ন হয়ে আছে। মুরাদপুর এলাকায় কর্মজীবীদের অফিসে যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদেরও পড়তে হয় দুর্ভোগে।

নগরীর বাকলিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় সেগুলো নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান।

এদিকে, সোমবার (২৩ জুলাই) উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *