চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

admin

পটিয়ায় প্রবল বর্ষণের তোড়ে পানির নিচে ভাসছে ছনহরা : নানা শংকা

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৪ ২০:৪৭:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৪ ২০:৪৭:৫৪

আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :

বঙ্গোপসাগরে চলমান লঘুচাপের প্রভাবে গত দুই দিনের অবিরাম বর্ষণে পটিয়ার শ্রীমতির উপরিভাগের পাহাড়ি ঢলের পানি ইতিপূর্বে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে উত্তর ছনহরা এলাকায় ঢুকে পড়লে অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রায় কয়েকশ একর কৃষি জমির চাষাবাদ ও কয়েক কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ ঢলের পানিতে ভেসে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্য চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। বর্তমানে বেড়িবাঁধ সংস্কার বিহীন ও খোলা অবস্থায় থাকায় ছনহরা বাসী আতংকের মধ্যে দিন যাপন করছে।

ছনহরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহেদুল হক জানান, বর্তমানে পুরো ইউনিয়ন পানির নিচে রয়েছে। সাধারণ মানুষ বন্যাক্রান্ত হওয়ায় আতংকে দিন যাপন করছে। ছনহরা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতী জানান, বর্তমানে শুধু উত্তর ছনহরা নয়, আলমদার পাড়াসহ ইদ্রিস মিয়া সড়ক এলাকাটিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে পুরো ইউনিয়ন পানির নিচে ভাসছে। অনেক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ মাটির ঘর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে শ্রীমতির বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলমান বর্ষায় এ ইউনিয়নটি প্রায় ৪/৫ বার বন্যাক্রান্ত হওয়ায় ইউনিয়নের অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা যায়, ইতিপূর্বে চলমান বর্ষায় ৪/৫ বার ছনহরা, ভাটিখাইন ও কিরিঞ্জা সড়কের দুইটি স্পটে কয়েক হাজার ফুট সড়ক (বেঁড়িবাঁধ) মারাত্মক ভাঙ্গনের ফলে তিন ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ভাঙ্গনে এত বেশী ক্ষতি হয়েছে যে, ইউপি পরিষদের পক্ষে তা সংস্কার করার কোন বরাদ্দ না থাকায় তারা উপজেলা প্রশাসন, সাংসদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের শরণাপন্ন হয়। সব পক্ষ থেকে আশ্বাসও দেওয়া হয়। সর্বশেষ পটিয়ার সাংসদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সহ এব্যাপারে প্রকল্প গ্রহণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এরই মাঝে পুনরায় গত দুই দিন বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বিরামহীন বর্ষণ শুরু হলে ইউনিয়নটি আবার জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পূর্ব পটিয়ার হাইদগাঁও, কেলিশহর, খরনা, কচুয়াই এলাকার পানি ক্ষীপ্র গতিতে শ্রীমতি খাল বেয়ে বর্তমানে বেড়িবাঁধের ভাঙন দিয়ে ছনহরায় প্রবেশ করে চলেছে। ফলে আতংকে দিন কাটাচ্ছে ছনহরার ইউনিয়নবাসী।

এছাড়াও পার্শ্ববর্তী ভাটিখাইনেও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধের ৪-৫ স্পটে ফাটল দেখা দেওয়ায় এ ইউনিয়নের মানুষগুলোও এখন বেকায়দায় রয়েছে। ভাটিখাইন ইউপি চেয়ারম্যান মো. বখতিয়ার বলেন, ৪/৫ স্পটে এখন ভাঙন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেকোনো মুহুর্তে বেড়িবাঁধ ভাঙলে ভাটিখাইনের কয়েকশ পরিবার পানিতে ভাসবে। এছাড়াও কৃষি ও মৎস্য সম্পদ পানিতে বিলীন হবে। এদিকে পটিয়া পৌর সদরও গতকাল নির্মিতব্য ড্রেনের চলমান কাজের কারণে মুন্সেফ বাজার টু তালতলা চৌকি সড়ক, পটিয়া পিডিবি আদালত সড়ক, শহীদ ছবুর রোড সড়ক, স্টেশন রোড, বিওসি রোড সড়ক, তালতলা চৌকি টু আমির ভান্ডার সড়ক পানির নিচে নিমজ্জিত হয়। তবে বর্ষণ থামলে পানি কিছুটা নিষ্কাশন হলেও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সড়কগুলো এক প্রকার পানি নিচেই অবস্থান করে। স্থানীয়রা পটিয়া পৌরসভায় চলমান ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে পৌরসভাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার জন্য পৌর মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *