আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১২ ০০:২৭:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১২ ০০:২৭:১৪
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ সেবা প্রদানে আরো আন্তরিক হওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। এছাড়াও হাসপাতালের যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ১১ সেপ্টেম্বর সেবা গ্রহীতাদের সাথে কর্তৃপক্ষের এক যৌথ মতবিনিময় সভায় এ প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। মূলত সেবা প্রদানে কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সেবা দাতা ও সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) পটিয়ার সহায়তায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এ সভার আয়োজন করে। বেলা বারোটায় হাসপাতালের হলরুমে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু ইউসুফ মোঃ ওয়াহিদ উল্লাহ। সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়ক ডা. হাসান শহীদুল আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় সনাক-টিআইবি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রম তুলে ধরেন এরিয়া ম্যানেজার মোঃ জসিম উদ্দিন। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিপি অ্যাড. বদিউল আলম, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারী ড. সংঘপ্রিয় মহাথেরো, ডা. প্রদীপ কুমার নাথ, ডা. জয়দত্ত বড়ুয়া, সনাক সদস্য শীলা দাশ, নার্সিং ইনচার্জ অর্পিতা দত্ত প্রমুখ। সভার মূল পর্বে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সেবা গ্রহীতারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন এবং কর্তৃপক্ষ সেসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর প্রদান করেন। সভায় সেবা গ্রহীতাদের পক্ষ থেকে যেসব সমস্যা উত্থাপন করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাথরুম ও টয়লেট সঠিকভাবে পরিষ্কার না থাকা, করিডোরে ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকা, সাপে কাটা রোগীকে চট্টগ্রামে রেফার করা, জরুরী বিভাগের স্টাফদের খারাপ আচরণ, ডাক্তারগণ রোগীকে কম সময় ধরে দেখা, নাক-কান-গলার ডাক্তার না থাকা, আউটডোরে ডাক্তারগণ সঠিক সময়ে উপস্থিত না হওয়া, দালালদের উৎপাত বেড়ে যাওয়া, রোগীদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়ার প্রবণতা, ডাক্তার স্বল্পতা ইত্যাদি। সেবা গ্রহীতাদের প্রশ্নের জবাবে সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু ইউসুফ মোঃ ওয়াহিদ উল্লাহ বলেন, এ হাসপাতালের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ডাক্তার ও নার্সরা আন্তরিকতার সহিত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাথরুম ও টয়লেট সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয়, কিন্তু রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করে। তিনি আরো বলেন, করিডোরে ফ্যানের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনেক আগে বলা হয়েছে, কিন্তু এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ডাক্তারদের আন্তরিকতা থাকা সত্তে¡ও রোগীর চাপ বেশী থাকায় রোগীদের বেশী সময় দিয়ে দেখা সম্ভব হয়না। তিনি আরো বলেন, আরএমওসহ বর্তমানে বেশ কয়েকটি ডাক্তারের পদ খালী রয়েছে। ইমার্জেন্সিতে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে একজনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা এধরণের কাজের সাথে যুক্ত তাদের সতর্ক করে দেয়া হবে। তিনি ভবিষ্যতে এধরণের ঘটনা যাতে আর না হয় সেদিকে মনোযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ডেলিভারি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অত্র হাসপাতালে এখন নিয়মিত নরমাল ও সিজারিয়ান ডেলিভারি হচ্ছে। সাপেকাটা রোগীদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ হাসপাতালে সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসা দেয়ার জন্য কোন ওষুধ নেই, তাই রোগীর জীবন রক্ষার স্বার্থে তাকে দ্রুত চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, এখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলে সে রোগিকে কখনোই অন্যত্র পাঠানো হয়না। সভায় সেবা গ্রহীতা ছাড়াও সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।