ফারুক খান তুহিন
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১২ ১২:৪০:১০ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১২ ১২:৪০:১০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বীরকন্ঠ :
মিয়ানমার সরকার গোষ্ঠি ও সেনাবাহিনীর নির্যাতনের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত হন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরোদোগান। একারনে তিনি গ্লোবাল ডোনারস ফোরামের সম্মাননা পদক পেয়েছেন।
মঙ্গলবার লন্ডনে এই পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ভিত্তিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব মুসলিম ফিলানথ্রপিস্ট’ দুই বছর পর পর গ্লোবাল ডোনারস ফোরামের আয়োজন করে। এবার এই ফোরামে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত তুর্কি ফার্স্টলেডি।

২০১২ সালে প্রাণনাশের হুমকি উপেক্ষা করেও তিনি মিয়ানমার সফর করেন শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ানোর জন্য। সে সময় তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়নের খবর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠিটির জন্য সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে আমিনা এরদোগানই পথপ্রদর্শক। ২০১৭ সালে ৭ সেপ্টেম্বর তিনিই প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশ ছুটে যান।

তুর্কি সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বাস্তুদের জন্য ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। কক্সবাজার থেকে ফিরে গিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর সিএনএন ইন্টারন্যাশনালে একটি নিবন্ধ লেখেন আমিনা এরদোগান যার শিরোনাম ছিলো, ‘রোহিঙ্গাদের আকুতি উপেক্ষা করতে পারে না মুসলিম বিশ্ব’। এই লেখার মাধ্যেমে তিনি আরো একবার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে রোহিঙ্গাদের দুরাবস্থা তুলে ধরেন।

এছাড়া জাতিসঙ্ঘে তুর্কি পার্লামেন্ট মিশনের আয়োজনে ‘উদ্বাস্তুদের প্রতি সংহতি: ভূমধ্যসাগর, আফ্রিকা ও বার্মায় মানবিক সহায়তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানেও তিনি রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। এখানেই থেমে থাকেননি তুর্কি ফার্স্টলেডি, বিশ্বনেতাদের স্ত্রীদের কাছে তিনি চিঠি লেখেন রোহিঙ্গাদের প্রতি সদয় হতে।
এছাড়া ২০০৯ সালে ফিলিস্তিন ও গাজা উপত্যকায় আক্রমণের পর মানবিক দুরাবস্থার বিষয়টি নিয়েও কাজ করেন আমিনা এরদোগান।