চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি

জার্মপ্লাজম কেন্দ্র হবে বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষের অভয়ারণ্য: এনডিসি নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৬ ২১:৫৯:২১ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৬ ২১:৫৯:২১

শংকর চৌধুরী,খাগড়াছড়ি॥

পাহাড়ের বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রক্ষায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে। পাহাড় রাণী নামে পরিচিত পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি শহরের অদূরে মাটিরাঙার আলুটিলা পর্যটন নগরী এলাকায়, প্রায় ৮০ একর পাহাড়ি টিলার উপর জার্মপ্লাজম কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন প্রজাতির বিপন্ন বৃক্ষ রক্ষায় এই জার্মপ্লাজম কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা ‘এনডিসি’।

উদ্বোধন কালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন,‘পাহাড়ের প্রাকৃতিব বন আজ ধ্বংসের পথে। এখানকার প্রায় ৫ হাজার ছড়া বা পানির উৎসমুখ প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ে নাম মাত্র সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। কেবল পাবলাখালি বা বান্দরবানের কিছু অংশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এচাড়া রির্জাভ ফরেস্টের বাইরেও পাহাড়ের কিছু মৌজা বন রয়েছে। এসব মৌড়া বা পাড়া বন রক্ষায় পার্বত্য জেলা পরিষদকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে পাহাড়ে রাবার বাগান সম্প্রসারণের কারণে অনেক প্রাকৃতিক বন নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পাবলাখালি বা বান্দরবানের কিছু রির্জাভ ফরেস্ট রয়েছে। ভবিষ্যতে পাহাড়ে  নতুন করে আর কোন রাবার বাগান সৃজন বন্ধ করা হবে। এসব ছড়া বা পানি উৎসমুখ রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে  কাজ করা হবে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন,‘এটি পার্বত্য এলাকার প্রথম জার্মপ্লাজম কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে পাহাড়ে বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রক্ষা পাবে। মুলত পাহাড়ের পার্বত্য এলাকার প্রায় শতাধিক আদি বৃক্ষ রক্ষার্থে এই জার্মপ্লাজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এ জার্মপ্লাজমে প্রত্যেক বিলুপ্ত প্রায় বা বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ স্থান পাবে বলেও জানান, ‘এনডিসি’ নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

জার্মপ্লাজমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন,‘অনেকেই জানে পার্বত্য চট্টগ্রামে বনভূমি রয়েছে তবে এসব বনভূমি ধ্বংস বা উজাড় হওয়ার পিছনে বন বিভাগের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বন বিভাগ পাহাড়ের কোন বন সৃষ্টি করছে না বরং উজাড় করছে। বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে বন থেকে আদি বৃক্ষ হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে, তিনি এই জার্মপ্লাজম কেন্দ্র রক্ষায় এলাকাকাসীসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ’র সভাপতিত্বে অনুষ্টিত উদ্বোধনী সভায় আরণ্যাক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমদ, আরণ্যাক ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা জাফর আহমদ, জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম, নবাগত জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আহমার উজ্জামানসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রাথমিকভাবে পাহাড়ের বিপন্ন প্রজাতির হরিতকি, বহেরা, চিকরাশি, চাপালিশ, গাবগোলা, মহুয়া, টেউয়া/বর্তা, বাইজ্জ্যাা বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপন্ন বৃক্ষ চারা রোপণ করা করা হয়। এই কেন্দ্রে  জার্মপ্লাজমের ধারাবাহিকতায় বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষে প্রজন্মে পর প্রজন্ম প্রাণ সঞ্চারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *