আবদুল হাকিম রানা
পটিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৬ ২২:৫৯:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৬ ২২:৫৯:৫২
আবদুল হাকিম রানা, বীর কন্ঠ :
পটিয়ায় গতকাল বর্ণাঢ্য আয়োজনে চরম উত্তেজনাপূর্ণ এক ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেছে প্রায় ৫০ হাজার ফুটবলামোদি দর্শক। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এ ফাইনালে পটিয়া পৌরসভা ফুটবল দল গ্রাম থেকে উঠা আসা তারুন্য নির্ভর হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন ফুটবল দলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ১ম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলাটি গত শনিবার স্বল্প আলো ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্ধারিত সময়ে শেষ হতে না পারায় অবশিষ্ট ৩০ মিনিটের খেলা গতকাল রবিবার বিকাল ৪ টায় পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় স্টেডিয়ামের মাঠের সবুজ ঘাসের উপর গড়ায়। এতে প্রথমার্ধেই পটিয়া পৌরসভা দলের ১০নং- জার্সিধারী খেলোয়াড় সাফায়েতের এর একটি পাল্টা আক্রমন থেকে করা গেলে এগিয়ে যায় পৌরসভা ফুটবল একাদশ। এরপরে উভয় দল আক্রমন পাল্টা আক্রমন করে খেললেও কোন দলই আর কোন গোল নামের সোনার হরিণের দেখা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এ খেলায় পটিয়া পৌরসভা ফুটবল দল ১-০ গোলে বিজয়ী হয়ে ১ম বছরের মত অনুষ্ঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি মো. রাসেলুল কাদেরের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বদিউল আলম, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট নওশের ইবনে হালিম ও নাঈমুল ইসলাম, উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মিল্টন রায়। ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন আবুল কাশেম, সামশুল আলম বাবু, মাহবুবুর রহমান, নাছির উদ্দিন, ডা. শেখ সাইফুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবদুল মতিন, নাজিম উদ্দিন পারভেজ, মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। এতে সাংসদ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী বলেন, জাতির পিতার কন্যা প্রথমে সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করে যে খেলোয়াড় সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে যোগ্যতম জায়গায় নিয়ে প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যেইে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ আয়োজন করেছেন। এর মধ্যে থেকে এখন সারা বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রতিভাধর খেলোয়াড় উঠে আসবে। যারা আগামীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখবেন। তিনি পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে এ খেলার মাঠ ও স্টেডিয়ামের উন্নয়নে তার সাথে সমন্বয় করার আহবান জানিয়ে বলেন, এ মাঠে আজ ৫০ হাজার দর্শক খেলা দেখেছে। যার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। তিনি শীঘ্রই হাইদগাঁওয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কাজ এগিয়ে নেওয়ার তথ্য দিয়ে বলেন, জায়গার অভাবে হাইদগাঁওয়ে এ স্টেডিয়াম নির্মাণ করার সকল পরিকল্পনা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি খেলোয়াড়দেরকে প্রতিভা বিকাশে কঠোর অনুশীলেনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, খেলাধুলা শুধু শরীর মনকে সতেজ করে না, দেশে বিদেশে আত্ম পরিচিতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পরে এতে চ্যাম্পিয়ন পটিয়া পৌরসভা ও রানার্স আপ হাবিলাসদ্বীপ দলের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়। এসময় পৌরসভার টিম ম্যানেজার পুলক চৌধুরী ও হাবিলাসদ্বীপ দলের কর্ণধার চেয়ারম্যান শাফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ খেলায় সেরা খেলোয়াড়রের পুরস্কার লাভ করেন হাবিলাসদ্বীপে লু সা সিং মখমা, সেরা সুশৃঙ্খল ফুটবল দল খরনা ফুটবল একাদশ, সেরা গোলদাতার পুরস্কার পান রিপন হাইদগাঁও, সেরা ডিফেন্ডার পৌরসভার তারেক, সেরা গোল রক্ষক খরনার সবুজ, সেরা মিডফিল্ডার পৌরসভার আশিক, সেরা ষ্ট্রাকার পৌরসভার সাফায়েত। এতে ধারাভাষ্য দেন মো. ইকবাল, অধ্যাপক ভগিরত দাশ, মো. রুবেল ও আবদুল মান্নান।