বীর কন্ঠ
ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৬ ২২:৩৮:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৬ ২২:৪১:১৮
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৪ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে এক গৃহবধু। স্বামীর অভিযোগ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র আর টাকা নিয়ে তাঁর দুই সন্তানসহ পালিয়ে গেছে তার স্ত্রী। প্রেমের টানে স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যের ঘরে সংসার করার অভিযোগে মামলা করেছে স্বামী।
মামলার বিবরন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের হরিহর গ্রামের মৃত বিশ্বমিত্র বড়–য়া’র ছেলে দিলীপ বড়–য়া (৪০) এর সাথে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সৈয়দবাড়ি এলাকার প্রবাসী প্রকাশ বড়–য়া’র মেয়ে টুম্পা বড়–য়ার (২৮) বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ২০০৭ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পরে দিলীপ বড়–য়া সৌদি আরবে কর্মস্থলে পাড়ি জমান। এক বছর পর তিনি দেশে আসেন। সুখের সংসার চলছিল তাঁদের। কিছুদিন পরে তাঁদের কোল জুড়ে আসে কন্যা সন্তান ঐশি বড়–য়া, এর কয়েক বছর পর রাতুল বড়–য়া নামে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। প্রবাসী দিলীপ বড়–য়ার মা-বাবা মারা যাওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার আগে শশুড় বাড়িতে স্ত্রীকে রেখে যান। কয়েকমাস পর সন্তানদের পড়ালেখা’র জন্য চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসায় চলে যান স্ত্রী। এর মধ্যে স্ত্রী টুম্পা বড়–য়ার ছোট বোন বন্নি বড়–য়া’র দেবর রিটু বড়–য়া সজিবের সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আতœীয় হওয়ার সুবাদে টুম্পা’র ঘরে অবাধে যাতায়ত ছিল সজিবের। ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে দিলীপ বড়–য়া শহরের বাসায় এসে কয়েকমাস থেকে আবার বিদেশে পাড়ি দেন। কিন্তু স্বামী দিলীপ স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা আঁচ করতে পারেনি। গত বছরের ৫ জুন দিলীপের শাশুড়ী লক্ষী বড়–য়া বিদেশে মুঠোফোনে দিলীপকে জানান টুম্পা ও তাঁর দুই সন্তান অপহরন হয়েছে। বিষয়টি টুম্পার বাবা প্রকাশকে জানালে তিনি ৭ জুন ওমান থেকে দেশে চলে আসেন। পরদিন মেয়ে নিঁেখাজের বিষয়ে বাবা রাঙ্গুনিয়া থানায় জিডি করেন। দিলীপ ৯ জুন সৌদি আরব থেকে চলে আসেন।
দিলীপ বড়–য়া বলেন, “ বিদেশ থেকে আসার পর শশুড় বাড়িতে গিয়ে দেখেন টুম্পার আলমারি খোলা, ১৫ ভরি স্বর্ন কাপড় ও ব্যাংকের চেক বই নেই। পরে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে দেখেন দশ লাখ ৮৩ হাজার টাকা তার স্ত্রী এ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নিয়ে গেছে। শশুড়- শাশুড়ীকে জিজ্ঞেস করলে তারা একেক সময়ে একেক কথা বলে। তারা ঘটনাটি বিভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্ঠা করায় মামলা করতে দেরী হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় তাদের খুঁজেছেন তিনি। বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে চলে এসেছেন তিনি , তার বিদেশের সমস্ত উপার্জন তাঁর স্ত্রী নিয়ে যাওয়ায় তিনি এখন নি:স্ব বলে জানান। মামলায় অভিযুক্ত সজিবের বাড়ি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার পশ্চিম গুজরা গ্রামে যোগাযোগ করে তাকে পাননি। মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি টুম্পা ও দুই সন্তান নিয়ে আছেন। ডিস্টার্ব না করতেও দিলীপকে মুঠোফোনে হুমকি দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। ”
জানতে চাইলে টুম্পার মা লক্ষী বড়–য়া মুঠোফোনে বলেন, “ মেয়ে চলে গেছে কি করব। ” তবে তারা কোথায়ও আছেন তিনি জানেন না বলে জানান।
