চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

বীর কন্ঠ ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

মাদক কারবারিদের নতুন ‘হিটলিস্টে’ সাংসদসহ প্রভাবশালীরা

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৮ ০০:৪১:২৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৮ ০০:৪১:২৩

বীর কন্ঠ ডেস্ক :

মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের ধরতে এবার কৌশল পরিবর্তন করে মাঠে নামছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে ৫৪ জনের একটি ‘হিটলিস্ট’ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কক্সবাজারের একজন সংসদ সদস্য ও তার আত্মীয়-স্বজন এবং প্রভাবশালীদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পূর্বের তালিকা হালনাগাদ করে সেটা যাচাই বাছাই করে আবারও অভিযানের জন্য তালিকা তৈরি হয়েছে। এই তালিকা রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বড় বড় গদফাদার রয়েছে। আর তাদের ধরতেই যৌথ অভিযান পরিচালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার ঘোষণার পর গত ১৪ মে সংবাদ সম্মেলন করে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করে র‌্যাব। এরপর সাঁড়াশি অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক সন্দেহভাজন মাদক কারবারি নিহত হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজা।

র‌্যাবের পর অনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানে নামে পুলিশ। তারাও বিভিন্ন সময় মাদকের বড় বড় চালান আটক করতে সক্ষম হয়। অভিযানগুলো চলমান থাকলেও কিছুটা গতি কমে এসেছে।

 

এদিকে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকের বড় বড় চালান প্রতিনিয়ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার হচ্ছে। সেসব চালানের মধ্যে বেশ কিছু চালান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। তবে বহনকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আটক হলেও এর নেপথ্যেই থেকে যাচ্ছে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে এসব গডফাদার।

 

সেই গডফাদারদের ধরতেই কক্সবাজারের ৫৪ জন মাদক কারবারির একটি ‘হিটলিস্ট’ তৈরি করেছে সরকার।

 

জানা গেছে, গডফাদারদের ধরতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক অপারেশন ড. এএফএম মাসুম রাব্বানীকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করেছে। টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত ৫৪ ইয়াবা গডফাদারকে ধরতে অভিযানও শুরু করেছে। ওই তালিকায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য, তার পিএসসহ তার নিকটআত্মীয়দেরও নাম রয়েছে। এই টাস্কফোর্সে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, কোস্টগার্ড, এনএসআই ও ডিজিএফআই-এর প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

 

এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রধান করে একটি কোর কমিটিও গঠন করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। মন্ত্রণালয় কোর কমিটি ও বিশেষ টাস্কফোর্সের কর্মপরিধিও নির্ধারণ করে দিয়েছে। কোর কমিটিকে সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা  বলেন, ‘এমন তালিকা হতে পারে। তবে এই বিষয়ে সরাসরি আমি কিছু হাতে পাইনি, পেলে বলতে পারতাম। পুলিশের কাছে অনেক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান   বলেন, ‘৫৪ জনের লিস্ট হয়েছে কি না সেটা জানি না। তবে আমাদের কাছে গডফাদার বলে কিছু নাই। যার কাছেই মাদক পাওয়া যাবে বা মাদক ব্যবসায়ী সে যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন  বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেকের তালিকা রয়েছে। সে সব তালিকা হালনাগাদ করা হয়। নতুন করে আবারও তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে; সেটা প্রতিনিয়তই হয়। আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালাচ্ছি। এবার কিছুটা কৌশল পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

কক্সবাজারের একজন সাংসদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।সূত্র- ঢাকা টাইমস:

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *