চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

বেলাল আহমদ বিশেষ প্রতিনিধি

লামায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা শিক্ষক সিন্ডিকেট নিপন ও আলিমের পকেটে 

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২০ ১৯:১৩:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২০ ১৯:১৬:০৯

বান্দরবানের লামা উপজেলার লুলাইং মুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৭ জন শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় অন্য লোকের শিওর ক্যাশের মোবাইল নাম্বার দিয়ে অসহায় দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের সরকারি উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি শিক্ষক সিন্ডিকেট।

সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলার লুলাইং মুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৭ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায়। এই তালিকায় ২১১ জন শিক্ষার্থীরা মুরুং জাতিগোষ্ঠীর। উক্ত স্কুলের অভিভাবকরা অশিক্ষিত ও সহজসরল হওয়ায় তাদের মোবাইল নাম্বারের স্থলে অন্য লোকের মোবাইল নাম্বার দিয়ে সু-কৌশলে সেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে উক্ত বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিপন চন্দ্র শর্মা সহ দরদরী পাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আলীম এর সিন্ডিকেট।

লুলাইং মুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির প্রাপ্ত ৩য় শ্রেণীর ছাত্র ফানটয় মুুরং এর পিতা চামপ্লাম মুরুং এর শিওরক্যাশ নাম্বারটির জায়গায় লামা বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াছ (০১৮১৬৪৪৬২৬৩) এর নাম্বার দিয়ে উক্ত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২য় শ্রেণীর ছাত্রী উয়ি মুরুং, ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র চামরিং মুরুং, ১ম শ্রেণীর ছাত্র রুইপুও মুরুং এর অভিভাবক চারপুউ মুরুং এর মোবাইল নাম্বারের স্থলে লামা বাজার স্টার শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সঞ্জয় দাশ (০১৮১৮০৮৪০৩০) মোবাইল নাম্বার দিয়ে ১ হাজার ৫শত টাকা তুলে ভাগাভাগি করে নিয়েছে শিক্ষক সিন্ডিকেটটি। ২য় শ্রেণীর ছাত্রী মেনপায়া মুরুং এর পিতা বিনখোম মুরুং এর জায়গায় শিক্ষক শহীদের (০১৬৩২৬৪৭৯৪৬) নাম্বার দিয়ে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। একই ভাবে উক্ত উপবৃত্তির টাকা এসেছে লামা বাজারের স্টার শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী জিকু দাশ (০১৮৩০০৮৭৬১৯), আনিস, পলাশ রুদ্র (০১৮৭১৪৮৭৭৪৬) নাম্বারে। তারা জানায় তাদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা নিতে এসেছে দরদরী পাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আলীম। এমনি করে ২৪৭ জন ছেলে-মেয়ের উপবৃত্তির টাকা জালিয়াতি করেছে শিক্ষক সিন্ডিকেটটি।

লামা বাজারের কয়েকজন মোবাইল ব্যবসায়ী বলেন, মাস্টার আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল ফাকিঁ দিয়ে লামা বাজারে অবৈধ বিকাশ সিম দিয়ে বিকাশ ও শিওরক্যাশ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লামা বাজারে সন্দেহ জনক ঘুরা ফিরা করতে দেখা যায়।

মাস্টার আব্দুল আলীম একই এলাকায় চাকরি করার সুবাদে বিকাশ ব্যাবসা সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত।কিছু দিন আগে বাজারে বিকাশ দেনদেন করার সময় হাতেনাতে ধরে আটক করে এবং শিক্ষক নেতারা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে লামা বাজার ব্যাবসায়ীরা পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যা বিদ্যমান।

খবর নিয়ে জানা যায় মাস্টার আব্দুল আলীমের স্কুল সহ উপজেলার সকল দূর্গম স্কুল গুলোতে একই সমস্যায় জর্জরিত।

দরদরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহীদ বলেন, আমার মোবাইলে টাকা এসেছে। শিক্ষক আব্দুল আলীম সেই উপবৃত্তির টাকার জন্য এসেছিল। আমি বলেছি যেই মেয়েটির টাকা সেই মেয়ে বা তার অভিভাবক না আসলে টাকা দিবনা। এই টাকা আমার।

এই বিষয়ে মাস্টার আব্দুল আলীম বলেন, ভাই কিছু করার দরকার নাই। আপনাদের (সাংবাদিক) কি করতে হবে বলেন ?

লুলাইং মুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিপন চন্দ্র শর্মা বলেন, তাড়াহুড়া করে করতে গিয়ে অন্য লোকের নাম্বার ব্যবহার করেছি। সামনে থেকে ভুল হবেনা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। এই বিষয়ে উক্ত শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ সহ তাদের বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপবৃত্তির টাকা জালিয়াতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিটন বড়–য়া বলেন, সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, একজন শিক্ষক এমন কাজ করতে পারে আমার জানা ছিলনা। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *