চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

নীরব জসীম ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা দক্ষ মানব শক্তি সৃষ্টি করছি : মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বি.এসসি

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২২ ২১:৩৩:০৬ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২২ ২১:৩৩:০৬

একটা সময় এই এলাকার মানুষ শিক্ষা বঞ্চিত ছিল। নারীদের শিক্ষার কথা বললে মহাপাপ মনে করতেন। আমি যখন নুরুল ইসলাম পৌর বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছি তখন অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। ভাড়া করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রথমে ক্লাস শুরু করি। আজ সেই স্কুলে ছাত্রী ভর্তির প্রতিযোগিতা চলছে। চান্দগাঁওয়ের ঘরে ঘরে মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছে। ভালো ফলাফলের সাথে সহশিক্ষার কার্যক্রমে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রথম পুরস্কার পাচ্ছে। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে সমাজের নানা পেশায় এই স্কুলের ছাত্রীরা প্রতিষ্ঠা লাভ করছে। এসব দেখে গর্বে আমার বুক ভরে যাই।’ উপর্যুক্ত কথাগুলো বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম বিএসসি। তিনি গতকাল (২২ সেপ্টম্বর) শনিবার নুরুল ইসলাম পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, এই স্কুলের এক অভিভাবক তার কন্যাকে দুবাই প্রবাসী কাছে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আমি অভিভাবকের সাথে কথা বললে তিনি দুই বস্তা চালের বিনিময়ে মেয়েকে ওই যাত্রায় বিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকেন। পরে সেই মেয়ে এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে পাশ করে ডাক্তারী পড়ে। বর্তমানে সে নামকরা একজন ডাক্তার এবং তার স্বামীও একজন ডাক্তার। সঙ্গতকারণে মন্ত্রী ওই মেয়ের নাম উল্লেখ করেননি।
বিশেষ অতিথি দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ’র সম্পাদক সৈয়দ উমর ফারুক বলেন, চান্দগাঁও ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত একটি গ্রাম। নানা কারণে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলে শিক্ষার প্রদীপ জ্বেলেছেন নুরুল ইসলাম বিএসসি। অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা এমপি, মন্ত্রী হয়ে সরকারী বরাদ্দ থেকে যৎসামান্য সমাজের কাজ করেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম বিএসসি ব্যতিক্রম। তিনি নিজের পকেটের টাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, নগরীতে গভীর নলকূপ, প্রতিটি মসজিদ-মন্দিরে আইপিএস দিয়ে জনগণের সেবা করেছেন। সানোয়ারা বেগমকে এ যুগের বেগম রোকেয়া উল্লেখ করে মঞ্চ সম্পাদক বলেন, তিনি নীরবে নারী শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে বেগবান করেছেন।
বিশেষ অতিথি তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষা হবে আনন্দময়, শিক্ষায় প্রতিযোগিতা থাকবে কেন। প্রতিযোগিতায় কৌশল থাকে। শিক্ষায় কৌশল থাকলে মেধা বিকশিত হবেনা। আমি এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ব যেখানে ভর্তি হতে যোগ্যতা লাগবে এসএসসি ফেল। যারা ফেল করে তাদের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে অন্যরকম মেধা। সেই মেধাকে খুঁজে বের করতে হবে। আমি কারিগরি শিক্ষা দিয়ে এসব ফেল করা শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করবো।
চান্দগাঁও ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির সাথে রাজনীতি করে শিখেছি কিভাবে সময়কে কাজে লাগিয়ে জনসেবা করতে হয়। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করে তিনি আজ সর্বমহলে প্রশংসিত। চান্দগাঁওয়ের দুঃখ বলে পরিচিত ডোমখালের উপর সেতুর বরাদ্দ দিয়ে তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। হযরত আনার উল্লাহ শাহজী নামে নতুন সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া চান্দগাঁওয়ের অসংখ্য সড়কের জন্য মন্ত্রী প্রকল্প থেকে বরাদ্দ দিয়েছেন। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ আমিরুল কায়সার বলেন, এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যারা আজ পুরস্কৃত হচ্ছো তাদের দায়িত্ব বেড়ে গেল। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তোমরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করো।
সভাপতির বক্তব্যে সানোয়ারা বেগম বলেন, ঈমান ঠিক থাকলে সবকিছু সম্ভব। নুরুল ইসলাম বিএসসিকে প্রধানমন্ত্রী যখন যে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি তখন তা মেনে নিয়েছেন। দেশের ও দলের প্রতি অনুগত ছিলেন বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদুল আলম ও সাংবাদিক সৈয়দ কামরুল হাবীব, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র লাল দেব। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নুরুল ইসলাম পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফরিদা বেগম। অনুষ্ঠানে একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন মন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ কন্যা শাকিলা জাহান। এছাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। পরিশেষে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি নুরুল ইসলাম বিএসসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *