প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৫ ২৩:২৮:৫৯ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৫ ২৩:২৮:৫৯
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :
রাঙ্গুনিয়ায় কবিরাজি চিকিৎসক ও তাঁর সহকারিকে অপহরনের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম মো. নজরুল ইসলাম(৪৫)। বাড়ি নোয়াখালী জেলায় হলেও তিনি চন্দ্রঘোনা-লিচু বাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। সোমবার রাতে উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের লিচু বাগান তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চন্দ্রঘোনা লিচু বাগান এলাকার কবিরাজি চিকিৎসক মো. মোরশেদ আলম (৩৫) ও সহকারি মো. রুবেল (২২)কে অপহরন , মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে থানায় দায়ের করা মামলার ৬ নম্বর আসামী নজরুল । অপহরনের পর ১৯ এপ্রিল বিকাল ৪ টার দিকে অপহৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।
রাঙ্গুনিয়া থানার পিএসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মাহাবুব হোসেন বলেন, “ গ্রেপ্তার হওয়ার পর নজরুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আসামী আদালতে জবানবন্দীতে অপহরনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন । মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ”
মামলার বাদী কবিরাজি চিকিৎসক মো. মোরশেদ আলম বলেন, তাঁর বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলা হলেও তার শশুড় বাড়ি চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের পাঠান পাড়া হওয়ার সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চন্দ্রঘোনা লিচু বাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত কুরবানী ঈদে তার স্ত্রীর চাচাত মামা ফরহাদ চৌধুরী ওরফে বিসমিল্লাহ একটি গরু কিনে দিতে বলেন। তিনি গরু দিতে অপারগতা জানালে ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮ টার দিকে ৬ জন লোক মোরশেদ আলমের ভাড়া ঘরে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মী করে মোরশেদ ও তাঁর সহকারি মো. রুবেলকে সিএনজি চালিত একটি অটোরিক্সায় করে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে চন্দ্রঘোনার চৌধুরী গোট্টা এলাকায় একটি বসতঘরের অন্ধকার কক্ষে তাঁদের খাটের সাথে বেঁধে মুখে কাপড় গুঁেজ দেয়। বাঁধা অবস্থায় আসামীরা তাঁদের দফায় দফায় মারধর করে। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী কহিনুর আক্তার আতœীয় স্বজন ও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিতে থাকে। পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দেন। এর মধ্যেই তার স্বামীকে চন্দ্রঘোনার চৌধুরী গোট্টা এলাকায় একটি বসতঘরে আটকে রাখার গোপন খবর পান তিনি। বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোরশেদ আলম ও সহকারি মো. রুবেলকে উদ্ধার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামীরা পালিয়ে যায়।