চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

প্রতিবন্ধী শিশুর পাশে রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৭ ২২:৪৫:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৭ ২২:৪৫:৫২

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা সুইঅপ্রু মারমা ও মেসে মারমা দম্পতির একমাত্র ছেলে মং এনিং মারমা (৮)জন্মগতভাবে শারিরীক প্রতিবন্ধী। সারাদিন মায়ের কোলেই রাখতে হয় তাকে। দিন মজুর বাবার পক্ষে সংসারের খরচ চালিয়ে ছেলের চিকিৎসা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। দুই বছর আগে প্রতিবন্ধী কার্ড পেলেও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেনা শিশুটি। স্থানীয় তরুন জাহেদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষন করলে বৃহষ্পতিবার(২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁদের কার্যালয়ে ডেকে আনেন। তাৎক্ষনিকভাবে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করেন ও  তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেরাপির ব্যবস্থা করেন।

জানা গেছে, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দুর্গম এলাকা ধর্মগোদা গ্রামটির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য এলাকায় থাকেননা বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।

ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “ প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতা না পাওয়া ও অসুস্থতার খবরটি ফেসবুকে ইসলামপুর এলাকার এক তরুন বিষয়টি আমাকে জানান। শিশুটির অসুস্থতার খবর শুনে মানবিক কারনে ঐ তরুনকে তাদের নিয়ে আমার অফিসে আসতে বলি। ”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন, “ সমাজসেবা অফিসের প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়া হয়েছে শিশুটিকে। উপজেলা সদর থেকে এলাকাটি দূর্গম হওয়ায় কেউ এখানে এসে যোগাযোগ না করায় শিশুটি এতদিন ভাতা পায়নি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে। বিষয়টি তাঁরাও আমাদের জানাতে পারতো। ”

প্রতিবন্ধী শিশুর বাবা সুইঅপ্রু মারমা বলেন, “ দুই বছর আগে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যাপারে এনিং মারমা তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু এই পর্যন্ত সে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়নি। তিনি ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানানোর চেষ্ঠা করলেও  তাকে পাননি। ইউএনও স্যার এখন সব করে দিয়েছেন, খুব ভাল লাগছে।  ”

তরুন জাহেদুর রহমান বলেন, “ পাশ্ববর্তী গ্রামের দূর্গম এলাকার প্রতিবন্ধী শিশুটির খবর পেয়ে মানবিক কারনে ঐ গ্রামে ছুটে যায়। শিশুটির পরিবার আর্থিকভাবে খুবই অস্বচ্ছল। প্রতিবন্ধী শিশুর ভিডিও ও তাঁদের সমস্যার কথা ফেসবুকে ইউএনও মহোদয়কে জানালে তিনি আজই(বৃহষ্পতিবার) ওনার অফিসে যেতে বলেন। তিনি শিশুটির যাবতীয় সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষনিক সব ব্যবস্থা করে দেন। প্রতিবন্ধীর জন্য এই কাজটি করতে পেরে খুবই খুশী লাগছে। ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *