নূর হোসেন মামুন ,
কাপ্তাই প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৩ ২১:০৩:২১ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৩ ২১:০৩:২১
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কাগজ কল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কর্ণফূলী পেপার মিলস লি. (কেপিএম) প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা, পরিকল্পনাহীনতা সহ নানামুখী সমস্যাসহ ধারাবাহিক লোকসানে জর্জরিত হয়ে এর উৎপাদন ক্রমশই কমে আসছে। বিপুল পরিমান বকেয়া পাওনাসহ শ্রমিক অসন্তোষ, পুঞ্জীভূত লোকসান ও চরম অর্থ সঙ্কটে জর্জরিত কর্ণফুলী পেপার মিল লিমিটেড (কেপিএম) এর জ্বলন্ত বাতি প্রায় নিভু নিভু অবস্থায় এসে পৌছেছে। বিসিআইসি ও কেপিএম সূত্রে জানা যায়, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ক্রমেই অসুস্থ হতে থাকে এক সময়কার গর্ব কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড। আর্থিক সংকটের কারনে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা ২ মাস বেতন পায়নি। এই অবস্থায় শ্রমিক কর্মচারী ও অস্থায়ী শ্রমিকরা বেতনভাতা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে।
এমতাবস্থায়
কেপিএমকে আবারো টেনে তুলতে এবার সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল অাজ বুধবার কেপিএম সরেজমিনে পরিদর্শনে আসছেন। পরিদর্শনে এসে কেপিএম গেস্ট হাউসে পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্হায়ী কমিটির বৈঠকে কেপিএম মিলকে কিভাবে লাভজনক করা যায় সেই সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় কেপিএমের বিভিন্ন বিষয়ে অালোচনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি।
রাঙামাটি সাংসদ উষাতন তালুকদারের একান্ত সহকারী এম আর হোসাইন জহিরের সঞ্চালনায় এই সময় কমিটির সদস্য রাঙামাটির সাংসদ উষাতন তালুকদার, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা, শিল্প মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব জিয়াউর রহমান খান, পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ নুরুল হাদী, পার্বত্য চট্রগ্রাম মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্হায়ী কমিটির সচিব এ কে এম নাছির উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম হুমায়ন কবির, বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মো: শাহীন কামাল, উদ্ধর্তন মহা-ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মো: আসাদুর রহমান টিপু, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুপ্রু চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য সান্তনা চাকমা, কেপিএম এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক ড: এম এম এ কাদের, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল, কেপিএম সিবিএ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনিছুর রহমান সহ কেপিএম এর সকল বিভাগীয় প্রধানগণ, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্হিত ছিলেন।
পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্হায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির এমপি অালোচনা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ঐতিহ্যবাহী কেপিএম মিলকে আবারো লাভজনক করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে, ইতিমধ্যে বিসিআইসির মাধ্যমে সরকার কেপিএম এর জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, আমরা আজকে পরিদর্শনে এসে যে সমস্ত সমস্যা দেখেছি তা সরকারের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে এর সমাধানের চেষ্টা করবো। মৃতপ্রায় এই মিলসকে কিভাবে সচল করা যায় তা অামরা বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির অালোচনায় তুলবো। অামরা এই মিলসের পুনঃগঠন চাই, সচল চাই, অামাদের দেশের কাগজের ঘাটতি পূরণে কেপিএম যেমন ভুমিকা রেখেছিল তেমনি ভবিষৎ এ ও সভ্যতার উন্নয়নে, স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে এই মিলস ভুমিকা রাখবে। বিশ্ব বাজারের সাথে টিকে রাখার জন্য অামরা কেপিএমকে অারও অাধুনিকায়ন করবো।